পুলিশি বাধার অজুহাতে বিএনপি’র উত্তর জেলার কর্মপদ্ধতি সভা বাতিল

রুবেল খান॥ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করতে কৌশলী ভূমিকায় বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। যে কারনে তৃণমূলকে সু-সংগঠিত করনে কর্মপদ্ধতি সভা আয়োজন করেও তা বাতিল করেছেন। বরিশাল প্রেসক্লাবে কর্মসূচী পালনে পুলিশী বাধার অজুহাতে কর্মপদ্ধতি সভার এই আয়োজন বাতিল করেন তারা। তবে এটা উত্তর জেলা বিএনপি’র পূর্ব পরিকল্পিত কৌশল বলে অভিযোগ করছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
তৃণমূলের একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫ জানুয়ারীকে কেন্দ্র করে দেশ ব্যাপী সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। প্রায় ৩ মাসের টানা কর্মসূচি পালন করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকতে পারেনি তারা। এর কারন হিসেবে বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দুর্বলতাকেই দায়ি করছেন বিএনপি’র নীতি নির্ধারকরা। যে কারনে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণার আগেই দেশ ব্যাপী তৃণমূল থেকে বিএনপিকে সু-সংগঠিত করন কর্মসূচী গ্রহণ করেন দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী বরিশালের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, মহানগর এবং পৌর বিএনপি’র কমিটি পুনঃগঠন করে তৃণমূলকে সু-সংগঠিত করার নির্দেশ দেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সন।
এদিকে চেয়ারপার্সনের এমন নির্দেশনা প্রায় দুই মাস পূর্বে বরিশালের প্রতিটি জেলা এবং মহানগর কমিটির কাছে প্রেরণ করেন কেন্দ্রীয় কমিটি। সে অনুযায়ী বরিশাল মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ তৃণমূল বিএনপিকে সু-সংগঠিত করতে ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে। এখন তা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশনা মানছে না বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি। নানা অজুহাত দেখিয়ে তৃণমূল বিএনপিকে সু-সংগঠিত করতে সময় ক্ষেপণ করছেন কমিটির শীর্ষ পদে থাকা নেতারা। যে কারনে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তৃণমূলকে সু-সংগঠিত করতে পারেনি তারা।
উত্তর জেলা বিএনপি’র একাধিক নেতা-কর্মী জানান, এ কমিটির সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ গত আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের থেকে নিজেকে নিরাপদ দুরত্বে রেখেছেন। মামলা মুকাদ্দমা থেকে বাঁচতে বরিশাল ছেড়ে রাজধানীতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি আবার ফিরে এসেছেন। অপরদিকে সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের মাথায় এখনও বেশ কয়েকটি মামলার খড়গ রয়েছে। গৌরনদী আগৈলঝাড়ার কয়েকটি মামলায় চার্জশীটও চূড়ান্ত পর্যায়ে। যার কারনে মামলায় পর্যুদস্ত সাধারন সম্পাদককে পালিয়ে থেকেও দল পরিচালনা করতে হচ্ছে। যার কারনে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে কমিটি গঠনে নেতাকর্মীদের আগ্রহ অনেকটা কম। এদিকে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা মানতে গেলে একজন নেতার নিজস্ব এবং পকেট কমিটি ভেঙ্গে যাবে। অসাংগঠনিক নেতাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে সাংগঠনিক নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বের দায়িত্ব দিতে হবে। এমনটা হলে অনেকেরই ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাবে বলে তারা কমিটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ দিতে কালক্ষেপন করছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের চাপে পড়ে তৃণমূলকে সু-সংগঠিত করতে লোক দেখানো কর্মপদ্ধতি সভার আয়োজন করে উত্তর জেলা বিএনপি। আজ ৮ অক্টোবর বরিশাল প্রেসক্লাবে কর্মপদ্ধতি সভার আয়োজন করে। এ আয়োজনের ক্ষেত্রেও উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা অনিয়মের আশ্রয় নেয়। কমিটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়েই নামে মাত্র কর্মপদ্ধতি সভার আয়োজন করে। মূলত উত্তর জেলা বিএনপি’র টার্গেট ছিলো সভা ভন্ডুল করার। নিজের মধ্যে বিরোধের জানান দিয়ে শেষ পর্যন্ত কৌশলে পুলিশের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে কর্মপদ্ধতির সভা বাতিল করেছেন। মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ’র বরিশাল কলেজ সংলগ্ন বাস ভবনে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে সভা কর্মসূচী বাতিল ঘোষণা করেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এবং আকন কুদ্দুসুর রহমান। এসময় আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ৭ দিন পূর্বে সভা করার জন্য প্রেসক্লাবের কক্ষ ভাড়া নিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল পুলিশ তাদের ফোন দিয়ে জানিয়েছেন প্রেসক্লাবে সভা করতে দেয়া যাবে না। যে কারনে তারা ৮ অক্টোবরের সভাটি বাতিল করেছেন। অবশ্য এখানেও কৌশলগত ভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাল থেকে এড়িয়ে যান উত্তরের নেতারা। সভা বাতিল করলেও বিকল্প পন্থায় তৃণমূলকে সু-সংগঠিত করা হবে বলে জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) গোলাম কবির জানান, প্রেসক্লাবে সভার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। তবে বিএনপি চাইলে সদর রোডে তাদের দলীয় কার্যালয়ে কর্মসূচী পালন করতে পারে। কেননা সেখানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করে আসছে।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এবং গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. আবু সাঈদ বলেন, উত্তর জেলা বিএনপির নেতাদের নিজেদের মধ্যেই একাত্মতা নেই। যে কারনে সভার করতে গেলে অপ্রীতিকর ঘটনার মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলার অবনতী ঘটতে পারে। যে কারনে অনুমতি ছাড়া কোন উত্তর জেলা বিএনপিকে কোন প্রকার সভা বা কর্মসূচী পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উত্তর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আবুল হোসেন মিয়া, আফম রশিদ দুলাল, গৌরনদী পৌর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন সিকদার, নূরু খান, আবু বকর গাজী, সরোয়ার মৃধা প্রমুখ।