পুলিশি নির্যাতনে আহত সাংবাদিককের জামিন না-মঞ্জুর পটুয়াখালীতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদী মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ হাজতখানায় বসে দু’পা ছড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন মিজানুর। পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর আহত মিজানুর ঠিকমত দাঁড়াতেও পারেন না। হাত-পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেধে আছে। আদালত এজলাসেও দাঁড়াতে পারেননি তিনি। গতকাল রোববার পটুয়াখালী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (তৃতীয়) আদালতে মিজানুরের আইনজীবীরা তার উপর পুলিশি নির্যাতনের চিহ্ন দেখিয়ে অন্তত সুচিকিৎসার জন্য জামিন দেওয়ার নিবেদন জানান। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। বিচারক এএসএম তারিক শামস জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে পটুয়াখালী কারাগারের জেলারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশ দেন।
গত ১৬ মার্চ বাউফলের কালাইয়া বন্দর এলাকায় কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ হালিম খানের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনায় বাদানুবাদ ও হাতাহাতি হয় দৈনিক প্রথম আলো’র বাউফল প্রতিনিধি এবিএম মিজানুর রহমানের সঙ্গে। প্রথমে দু’জনের কেউই কারো পরিচয় জানতেন না। পরিচয় জানার পর নিজেরাই নিজেদের বিবাদ মিটিয়ে নেন। কিন্তু এ ঘটনাকে পুজি করে বাউফল থানার ওসি নরেশ কর্মকার মিজানুরকে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সাংবাদিক এবং মিজানুর জানিয়েছেন, ওসি নরেশ কর্মকার এবং ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাকে পুলিশের হামলা এবং সরকারি কাজে বাধাদানের কথিত অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতভর থানায় নির্যাতন করা হয়। সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাহেব আলী পাঠান, ওসি নরেশ কর্মকার ও তার অনুগত দুই কনষ্টেবল হাতকড়া পড়িয়ে এবং রশি দিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে মিজানুরের উপর নির্দয় নির্যাতন চালান।
সাংবাদিক এবিএম মিজানুর রহমানের উপর বর্বরোচিত নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্দন করা হয়। পটুয়াখালী প্রেসক্লাব আয়োজিত এ প্রতিবাদী কর্মসুচীতে বরিশাল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দসহ জেলার সবকটি উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালী প্রেসক্লাব সভাপতি স্ব^পন ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক নাসরিন মোজাম্মেল, গণজাগরণ মঞ্চের সমল্প^য়কারী সুভাষ চন্দ, প্রথম আলো’র বরিশাল অফিস প্রধান সাইফুর রহমান মিরন, বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি গোপাল সরকার, সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জি, সহ-সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর খান, বর্তমান সাধারণ স¤ক্সাদক এনায়েত হোসেন, বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এবং বাউফলের সমকাল প্রতিনিধি জিতেন্দ্রনাথ রায়সহ দশমিনা, কলাপাড়া, গলাচিপা, দুমকি উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা স্বাধীনতার মাসে পুলিশ হেফাজতে একজন সাংবাদিকের উপর বর্বর পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, বাউফল থানার ওসি নরেশ কর্মকার সাংবাদিক মিজানুরের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছেন তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানায়। বক্তারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পুলিশকে ব্যবহার করে মিজানুরের উপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে। বক্তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে নির্যাতনকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া না হলে আরও বৃহত্তর কর্মসুচী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।