পুলিশকে ঘুষ না দেয়ায় ঝড়ে গেছে ছাত্রের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ঘুষ না পেয়ে পুলিশের নিরবতা কেড়ে নিলো এক কলেজ ছাত্রের প্রাণ। থানায় জিডি এবং র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে তাকে। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া গ্রামে এ ঘটনার পর বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মৃত ঘোষনা করা হয় কলেজ ছাত্রকে। নিহত কলেজ ছাত্র মো. সোহেল রানা (২২) ঐ গ্রামের মো. আমজেদ আলী ফকিরের ছেলে এবং বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচ.এস.সি পাশ করেছে।
এদিকে হত্যার ঘটনায় বড়ইয়া গ্রামের ইউসুব হাওলাদারের ছেলে ফোরকান হোসেন এবং আব্দুল্লাহ আল মাহাবুবের স্ত্রী নাসিমা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে মূল হত্যাকারীরা।
নিহতের বাবা আমজেদ আলী ফকির জানায়, তাদের প্রতিবেশি এবং বিএনপি নেতা মৃত করিম হাওলাদার ওরফে বড় মিয়া’র ছেলে মাহবুব হাওলাদার দোকান নির্মাণের জন্য আমজেদ হাওলাদারের কাছে জমি চায়। কিন্তু তিনি দিতে অস্বীকার করেন। এজন্য তার কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে মাহাবুব ও তার ছেলে শুভ সহ সহযোগিরা। তার চাঁদা দাবীর বিষয়টি মোবাইলে রেকর্ডিং করে আমজেদ ফকিরের ছেলে কলেজ ছাত্র সোহেল রানা। এই ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট রাজাপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।
এদিকে থানায় ডায়েরী করার পর প্রতিপক্ষরা আরো ক্ষিপ্ত হয়। এজন্য ইতোপূর্বে চার বার আমজেদ আলী ফকিরকে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্ছিত করে এবং তাকে সহ পরিবারের সদস্যদের জীবন নাশের হুমকি দেয়। তাদের হুমকিতে আমজেদ আলী ঘটনার পর থেকে এলাকাছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ান।
আমজাদ বলেন, তার ছেলে সোহেল প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পালিয়ে ঢাকায় আশ্রয় নেয়। গত মঙ্গলবার রাতে সে কলেজের কাজে বাড়িতে ফিরে। গতকাল বুধবার কেবা কাহারা তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কলেজে ডেকে নেয়। এর পর থেকে আর কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বেলা ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী আব্দুল্লাহ আল মাহাবুব, তার ছেলে শুভ, সহযোগী লিটন এবং মিল্টন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহেলকে এলোপাথারী কুপিয়ে রাস্তার পাশে ডোবায় ফেলে রেখেছে।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় এবং পরবর্তীতে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসে। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে সোহেলকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, থানায় ডায়েরী করার পর পুলিশ এই বিষয়ে তেমন কোন জোড়াল ভূমিকা নেয়নি। এর কারন যানতে চাইলে রাজাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজান আসামীদের ধরে আনার জন্য ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবী করেন। কিন্তু অসহায় আমজেদ ফকির এসআই মিজানকে ২ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু টাকা নিলেও পুলিশের এই কর্মকর্তা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এমনকি থানার ওসির কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা সত্ত্বেও তিনিও এসআই’র পক্ষে সাফাই গেয়ে যান।
আমজেদ ফকির আরো জানান, থানায় অভিযোগ দিয়ে কোন কাজ না হওয়ায় বিষয়টি তিনি ঝালকারীর পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। সেই সাথে বরিশাল র‌্যাব-৮ কার্যালয়ে অধিনায়ক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে করে পুলিশ সুপারের নির্দেশে গতকাল বুধবার ঘটনার পূর্বে রাজাপুর থানার এসআই মিজান ডায়েরীর তদন্ত করতে বাদীর বাড়িতে যান। নামে মাত্র তদন্ত করে আরো ৫শ টাকা উৎকোচ নিয়ে চলে আসেন। এর কিছুক্ষন পরই আসামীরা তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে ডোবার পানিতে ফেলে রাখার পাশাপাশি চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
নিহতের বাবার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর পরই নম্বরটি কেটে দেন। এর পর বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে গতকাল বুধবার শেবাচিম হাসপাতালে মৃত ঘোষিত হওয়া কলেজ ছাত্রের লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করেছে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা।