পুলিশকে অর্ধলাখ টাকা ঘুষ না দেয়া কলেজ ছাত্রকে এসিড মামলার আসামী করার অভিযোগ মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দাবি করা ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে দেখা করতে বলেছিলেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুজ্জামান। এ টাকা নিয়ে দেখা করতে পারিনি। তাই আমার কলেজ পড়–য়া ছেলে শাওন হাওলাদারকে একটি এসিড নিক্ষেপ মামলার আসামী করা হয়েছে। এখন তার লেখা পড়া প্রায় বন্ধের পথে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের চানপুরা গ্রামের শারমিন ইসলাম ইরানি নামের এক মা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ কালে তিনি বলেন, আমার স্বামী সিরাজুল ইসলাম একজন দিনমজুর শ্রমিক। সম্প্রতি একই এলাকার চর নেহালগঞ্জ গ্রামের ডাকাতি মামলার আসামী শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাবিব ওরফে হবি ও মৃত আছমত হাওলাদারের ছেলে আব্দুর রশিদ হাওলাদারের সাথে একটি বাল্য বিবাহ নিয়ে আমার ছেলে শাওন এর সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঐ দু’জনার মধ্যে ডাকাতির টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হয়। কদিন পরেই রশিদের ছেলের  শরীরে কে বা কারা দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে।
এদিকে ঘটনার সময় কাউকে চিনতে না পারায় রশিদ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। কিন্তু ৮দিন পর শত্রু পক্ষের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে রশিদ ঐ ঘটনায় শাওন ও রাকিব হাওলাদারকে আসামী করে আদালতে এসিড অপরাধ দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।
শারমিন ইসলাম ইরানী আরো বলেন, মামলাদুটির তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত ছাড়াই প্রভাবিত হয়ে তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পায়তারা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে এসআই আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আসামীদের মাকে বলেন “আপনি আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। বাদী পক্ষ যোগাযোগ করেছে। তাই তাদের পক্ষেই চার্জশিট দেয়া হবে। তবে আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে বাদি পক্ষকে ৫০ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেলেদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হবে”
ইরানী বলেন, পুলিশ এবং বাদী পক্ষের হয়রানিতে এখন তার পরিবারের পথে বসার উপক্রম ঘটেছে। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ছেলেদের লেখা পড়া। তাই এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানান তিনি।