পিকনিক স্পট জমজমাট

রুবেল খান॥ প্রান ফিরে পেয়েছে বরিশালের ভ্রমন এবং পিকনিক স্পটগুলো। চলমান ২০ দলীয় জোটের হরতাল অবরোধে নাশকতার আশংকায় এখানকার পিকনিক স্পটগুলো জমজমাট হয়ে উঠেছে। বরিশাল সহ আশপাশের মানুষ যেখন দূরদুরান্তের ভ্রমন ও পিকনিক স্পটগুলোতে শিক্ষা সফর বা বনভোজন করতে পারছিলো না তখন সাবাই ছুটছেন কাছের এসব পিকনিক স্পটগুলোতে। এতে করে বরিশালবাসীর বিনোদন অক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি নিজ এলাকার পিকনিক স্পটগুলোর পরিচিতিও বাড়ছে। সূত্রমতে, ২০১৫ সালের শুরুতেই ৫ জানুয়ারী থেকে দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধ এবং হরতাল কর্মসূচী পালন করে আসছে বিএনপি-জামায়াত সহ ২০ দলীয় জোট। এসময়ের মধ্যে বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্বিত্তদের পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে মারাগেছে বাস যাত্রী এবং ট্রাকের শ্রমিক সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
এদিকে ২০ দল যে মুহুর্তে তাদের আন্দোলন কর্মসূচী পালন শুরু করেছে ঠিক সেই মুহুর্তটাই শিক্ষা সফর, বনভোজন এবং ভ্রমনের ভরা মৌসুম। আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনার পূর্বে নগরী সহ বরিশালের বিভিন্ন স্থানের স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লা, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন সংগঠন বাৎষরিক বনভোজনের আয়োজন করেন। কিন্তু ২০ দলের আন্দোলন কর্মসূচীর ফলে সকলেই আতংকগ্রস্ত হয়ে পিছু হটেন। অনেক অনেক স্থানে আন্দোলন শিথিল বা সরকারের সাথে কোন সমঝোতা হয় কিনা সে অপেক্ষায় বসেছিলেন পিকনিক কিংবা বনভোজন প্রেমিরা। কিন্তু দিন যতই বাড়তে আন্দোলনের গতি এবং পরিস্থিতি ততই ঘোলাটে হচ্ছে। আর তাই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাটাতে হচ্ছে দেশবাসীর।
তবে এ উদ্বেগ উৎকন্ঠা থামিয়ে দিতে পারেনি বরিশালের পিকনিক কিংবা ভ্রমন পিয়াসীদের। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারন মানুষ একটু বিনোদনের জন্য খুঁজে নিচ্ছেন বরিশালের মধ্যেই সৌন্দর্য মন্ডিত কোন বিনোদন এবং পিকনিক স্পট। অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটার সাগর কণ্যা, অথবা কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, সেন্টমার্টিন এর মত পর্যটন কেন্দ্রের ভক্তদের কাছে গুরুত্ব বেড়েছে বরিশাল নগরীর মধ্যে অবস্থিত ত্রিশ গোডাউন সড়কের বদ্ধ ভুমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পাড়, বান্দ রোডের প্লানেট পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্কের। নগরী থেকে একটু দূরো ভাবতে গেলে বিনোদনের জন্য বরিশালবাসী ছুটছেন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুরের নারিকেল বাগান ও বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার দুর্গা সাগর পাড়। দুর্গা সাগর পাড় পিকনিক স্পট হলেও বারতি বিনোদন ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে সাধারন মানুষ ছুটছেন সেখান থেকে কিছুটা দূরে গুঠিয়ার বিখ্যাত মসজিদ দেখতে। আবার অনেকে ছুটছেন বরিশাল সদর উপজেলার গজনি দিঘির পাড়ে।
অনেকে আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুঁজতে পিকনিক কিংবা বনভোজনে ছুটছেন নদী পথে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত প্রায় দেড় মাসে নগরী এবং তৎসংলগ্ন উল্লেখিত প্রতিটি স্পটেই পারিবারিক বা গোষ্ঠিগত ভাবে বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত এক মাসে এইসব স্পটগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ি বহর নিয়ে পিকনিক পার্টি আসতে দেখাগেছে। তবে এর মধ্যে মাধবপাশার দুর্গাসাগর, নাড়িকেল বাগান ও বদ্ধভূমি সংলগ্ন র্কীতনখোলা নদীর বিনোদন কেন্দ্রে পিকনিক পার্টির সংখ্যা একটু বেশিই দেখাগেছে। এসব স্পটে চলতে মাসের মধ্যে আরো বেশ কিছু পিকনিক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
নগরীর ত্রিশ গোডাউন বদ্ধভূমি এলাকায় সম্প্রীতি পিকনিকের আয়োজন করা বরিশাল মটর সাইকেল মেকানিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, হরতাল অবরোধের মধ্যে দূরে কোথাও গিয়ে পিকনিক করাটা ঝুকিপূর্ন হয়ে দাড়িয়েছে। তাই আমরা নিরাপদে ত্রিশ গোডাউনের বদ্ধভূমিতে পিকনিক করেছি। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও করেছি। আবার আশংকার মধ্যে না থেকে সন্ধ্যার মধ্যেই ঘরে ফিরতে পেরেছি।
মটর মেকানিকদের মত এখানে বনভোজনে আসা অনেকেই এমন মন্তব্যই করেছেন। তারা বলছেন, শুধুমাত্র বরিশালের বাইরেই নয় বরিশালের মধ্যেও যে মনমুগ্ধকর বিনোদন ও পিকনিক স্পট রয়েছে তা আমরা আগে বুঝতে পারিনি।