পার পেয়ে গেছে বিএম কলেজে প্রকাশ্য দুই ছাত্রী লাঞ্চনাকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল সরকারী ব্রজমোহান (বিএম) কলেজে প্রকাশ্যে ছাত্রী নির্যাতন করে আবারো পার পেয়ে গেলো ছাত্রলীগ নেতা। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান হলে দুই ছাত্রীকে প্রকাশ্যে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা ক্ষমতাসীন দলের এই ছাত্র নেতার শাস্তি হয়েছে শুধু সতর্ক করা। ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন ভূমিকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে ছাত্রী সহ সাধারন শিক্ষার্থীদের মাঝে। তবে এজন্য তারা দায়ি করছেন ছাত্রলীগের ইন্দোনদাতা বিএম কলেজ শিক্ষক সমতির সাধারন সম্পাদক এসএম কাইয়ুম উদ্দিন আহম্মেদকে।
সূত্রমতে বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের কথিম নেতা রফিকুল ইসলাম রহিম দীর্ঘ দিন যাবত একই বিভাগের ছাত্রী লাবনী আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু সন্ত্রাসী প্রকৃতির ছাত্রলীগ নেতার প্রস্তাব প্রত্যাক্ষান করে তাকে এড়িয়ে চলে লাবনী। এমনকি রহিমের ভয়ে মোবাইল নম্বরটিও পরিবর্তন করে ফেলে লাবনী। তখন রহিম লাবনীর মোবাইল নম্বর জানতে চায় তার বান্ধবি অপর্ণা চক্রবর্তীর কাছে। কিন্তু সেও তাকে এড়িয়ে যান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে লাবনী ও তার বান্ধবি অপর্ণা কলেজে আসলে ছাত্রলীগ নেতা রহিম তাদের পথরোধ করে। তখন লাবনীকে প্রেমের প্রস্তাব মেনে নিতে বলে। তখনও প্রস্তাব প্রত্যাক্ষন করায় ক্ষিপ্ত ছাত্রলীগ নেতা রহিম প্রকাশ্যে লাবনীকে মারধর করে। বাধা দিতে গেলে অপর্ণাকেও মারধর এবং লাথি মারে ছাত্রলীগ ক্যাডার রহিম।
এই ঘটনায় ঐ দিন দুপুরেই ছাত্রীদ্বয় রহিমের বিচারের জন্য কলেজ অধ্যক্ষর নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। অধ্যক্ষ বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেন শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক এসএম কাইয়ুম উদ্দিন আহম্মেদকে। কিন্তু ছাত্রলীগের উপদেষ্টা কাইয়ুম উদ্দিন তদন্ত না করে গতকাল শনিবার ছাত্রলীগ ক্যাডার রহিমকে ডেকে সতর্ক করে ছেড়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাইয়ুম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে গতকাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেছেন। সেখানে সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্র রহিমকে ডেকে প্রথম বারের মত সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে এরকম কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠলে রহিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিযোগ উঠেছে, বিএম কলেজে ছাত্রবেশে থাকা রহিমের মত একদল ছাত্রলীগ ক্যাডার রয়েছেন। যাদের ইন্দোন দাতা বা উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন কলেজের বহুল আলোচিত শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক এসএম কাইয়ুম উদ্দিন আহম্মেদ। ইতোপূর্বে তার ইন্দোনে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা বহু অপকর্ম ঘটিয়েছে। আবার কাইয়ুম উদ্দিন’র হস্তক্ষেপেই আবার ক্ষমা পেয়েছে বিতর্কিত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। শুধু মাত্র ছাত্রলীগকে ইন্দোন নয়, কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে কাইয়ুম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে।