পাঠদানের সময়সূচি নিয়ে বিপাকে সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বরিশাল এপেক্স হোমিওপ্যথিক মেডিকেল কলেজের পাঠদানের সময়সূচী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী ছাত্র-ছাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে ছাত্র-ছাত্রীরা লিখিত অবেদন করেও কোন ফল পাননি। দীর্ঘ তিন যুগ পরে সম্প্রতি এ মিডিকেল কলেজে পাঠদানের সময় বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টার পরিবর্তে সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নির্ধারন করা হয়েছে। এ অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক কলেজটির অনেক ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাসে অংশগ্রহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন কলেজটির সাড়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী। সরকারি-বেসকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরীজীবী বেশীরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই এখন হোমিওপ্যাথিক কলেজের পাঠদানের নতুন সময়ে শ্রেণীকক্ষে যেতে পারছেনা। অনেক গৃহিনী ছাত্রীকেও ওই সময়ে ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় বিধায় তারাও বিপাকে পড়েছেন। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের এধরনের তোঘলকী সিদ্ধান্তের ফলে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় লেখাপড়া তাদেও পক্ষে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তবে কলেজ প্রিন্সিপাল ডা. মো. জাকির হোসেন বলেন, আগে কলেজে বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত পাঠদান করানো হতো। হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। তাই বোর্ডের বিধি অনুসুরন করেই সময়সূচী নির্ধারন করা হয়েছে।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক মাহবুবুল ইসলাম ফাইজুল বলেন, হোমিওপ্যাথিক কলেজে আগে পাঠদান করা হতো বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। অফিস শেষে পাঠদানে অংশগ্রহন করতে পারবেন এমন আশায় তিনি চলতি শিক্ষা বর্ষে হোমিওপ্যাথিক কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্ত এখন বেলা ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নতুন সময়সূ নির্ধারন করায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় লেখাপড়া করা তার জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই অভিযোগ করেন বিএম কলেজের সম্মান শ্রেণীর ছাত্রী হাফজা বেগম। তিনিও হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।
কলেজের একাধিক শিক্ষকও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হোমিওপাথিক কলেজে শিক্ষার্থীদের দুই-তৃতীয়াশই কর্মজীবী। তারা কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন শেষে কলেজের পাঠদানে যাতে অংশগ্রহন করতে পারেন সে বিবেচনায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিকাল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঠদানের সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রিন্সিপাল মো. জাকির হোসেন তিন মাস আগে একক সিদ্ধান্তে বেলা ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নতুন সময় নির্ধারন করেছেন। ফলে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাার্থীর উপস্থিতি শূন্যের পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এসব বিষয় অধ্যক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাতে হবে। পরিচালনা পর্ষদে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করলে তখন সভায় ওই বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।