পাউবো ঘেরাও করার হুশিয়ারী মুক্তিযোদ্ধাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিকামীদের ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করার স্থান নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকার ওয়াবদা কলোনীর সংরক্ষন এবং সৌন্দর্যবর্ধন কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কারনে শুরু করা যাচ্ছে না। পাউবো কতৃপক্ষ’র টালবাহানার কারনে কার্যাদেশ পেয়েও কাজ শুরু করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযোদ্ধারা পাউবো কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যদি কাজ শুরু করতে না পারে, তাহলে পাউবো ঘেরাও কর্মসুচী দেয়ার হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড’র নেতৃবৃন্দরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা ও মহানগর কমান্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই হুশিয়ারী দেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাক হানাদারদের টর্চারসেল ও চারটি বাংকার সংরক্ষনসহ “ভৌত অবকাঠামো এবং সৌন্দর্য বর্ধন” প্রকল্পের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় বরিশাল সিটি কর্পোরেশকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এই প্রকল্পের জন্য ১৯৯২ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। যার বরাদ্ধ ২০১৬ সালে দেয়া হয়েছে। বরাদ্ধ পেয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এই কাজের জন্য টেন্ডার আহবান করে। নগরীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাহানারা এন্টারপ্রাইজ কাজ সম্পন্নের কার্যাদেশ পেয়েছে। পাউবোর মালিকানাধীন টর্চারসেল ও চারটি বাংকার’র স্থানে প্রকল্পের মাধ্যমে সীমানা প্রাচীর, রাস্তা, সেড র্নিমান ও আলোকসজ্জা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ড’র ডেপুটি কমান্ডার (সাংগঠনিক) এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কাজ শুরু করতে দিচ্ছেনা। ২০১৯ সালের মার্চে “ভৌত অবকাঠামো এবং সৌন্দয্যবর্ধন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাজটি শেষ করার কথা ছিলো। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন, বরিশালের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা বরিশাল জেলা ও মহানগর কমান্ড একাধিকবার আলোচনা করলেও কোন আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি। মাসের পর মাস প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দু পক্ষের চিঠি আদান প্রদানই হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এক মাত্র বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশননের নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কাজটি শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহবান করে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২০ জুন কাজ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজটি শুরু করা যাচ্ছেনা। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আমাদের চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে এ কাজের জন্য তাদের স্থানীয় সরকার থেকে চিঠি দিতে হবে।
বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এস এম ইকবাল বলেন, প্রায় ৪৬ বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড টর্চারসেল সহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের টর্চারসেল ও বাংকার আজও আমাদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদই নয় বরিশাল বাসী এটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে আগামী প্রজন্ম তাদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাহানারা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোস্তাক আহম্মেদ আহম্মেদ জানান, টেন্ডার পাওয়ার পর আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কম্পাউন্ডে কাজ করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ কাজের জন্য আমাদের কাছে অর্থ দাবী করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মোখলেছুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হক বীর বিক্রম, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর বিভাগীয় আহবায়ক প্রদীপ কুমার ঘোষ, মুক্তিযোদ্ধা মহানগরের ডেপুটি কমান্ডার শাহজাহান হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এমজি কবীর ভুলু, নুরুল আলম নুরু প্রমুখ।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংকার ও টর্চারসেলসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ বিজরিত স্মৃতিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড সংরক্ষন করে আসছে। এটি সংস্কারের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছিলো, তা আমাদের জানা ছিলো না। বিষয়টি জানার পরে আমাদের মন্ত্রনালয়ে জানানো হলে সেখান থেকে কোন সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আর আর্থিক লেনদের বিষয়ে তিনি জানান, এরকম কোন বিষয় নেই, তবে তাদের এ কাজটি আমরা (ডিপার্টমেন্টাল ওয়ার্ক) করার দাবী জানিয়েছি।