পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে একটি সফল অভিযানে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবার বিশাল চালান সহ এক মাদক ব্যবসায়ী যুবককে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর পশ্চিম গোরস্থান রোডের দেব কুমার লেন থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী যুবকের নাম মঈনুল ইসলাম (১৯)। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী গ্রামের ফোরকান আহমেদ ও আক্তার বেগম দম্পতির ছেলে। কক্সবাজার থেকে মাদকের চালান বরিশালে পৌঁছে দিতে এসে আটক হয় ওই যুবক। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় কোতয়ালী মডেল থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন এর নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক সত্য রঞ্জন খাসকেল, সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. মাহাবুবুর রহমান এবং সুজন চন্দ্র দে সহ পুলিশের একটি টিম পশ্চিম গোরস্থান রোডের দেব কুমার লেনে ছদ্মবেশে অবস্থান নয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিক্সা যোগে আসা মঈনুল ইসলামকে তল্লাশী করে তার হাতে থাকা সিনথেটিক হাত ব্যাগের মধ্যে লুঙ্গি দিয়ে প্যাচানো অবস্থায় থাকা ২৫টি প্যাকেটের মধ্যে ২০০ পিস করে মোট ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কমিশনার বলেন, আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী মঈনুল ইসলাম স্বীকার করেছে যে, সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকা হয়ে লঞ্চ যোগে বরিশাল নগরীতে আসে। ইয়াবার ওই চালান আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরালের বাসিন্দা মাখন ও হোসনেয়ারা চেয়ারম্যান দম্পত্তির ছেলে মো. মানিক এর কাছে পৌছে দিতে যাচ্ছিলো। সে নগরীর গোরস্থান রোড এলাকাতেই থাকে।
নগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন বলেন, আমরা মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স দিয়েছি। তারই অংশ হিসেবে ইতিপূর্বে কয়েকজন মাদক সম্রাট সহ বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্ধারও করেছি। কিন্তু আমাদের টার্গেট ছিলো বড় ধরনের চালান আটক করা। আর তাই মহানগরীতে পুলিশের নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি সোর্স নিয়োগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ৫ হাজার পিস ইয়াবার বিশাল চালান সহ একজনকে আটক করা হয়। এই বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সাম্প্রতিক সময়ের সব থেকে বড় চালান বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাছাড়া আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ীর স্বীকারক্তি অনুযায়ী মো. মানিক এর বাসায় অভিযান চালিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। মানিকের স্ত্রীর ভাষ্যমতে, পুলিশ তার বাসায় পৌছাবার এক ঘন্টা আগে বাসা থেকে বের হয়েছে। তবে পুলিশের একটি গোপন সূত্র জানিয়েছে, শুধু মানিকই নয়, মাদকের বিশাল এই চালান এর সাথে একজন নারীও জড়িত। তাকে সহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী) মো. ফরহাদ সরদার ও মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন প্রমুখ।