পশুর হাটে বিশৃঙ্খলা হলেই ব্যবস্থা -পুলিশ কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মহানগরীর পশুর হাটে ইজারাদাররা বিশৃঙ্খলা করলে বা বেঁধে দেয়া নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে আগামী বছর যাতে হাটের ইজারা না পায় সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবে পুলিশ। তাছাড়া কোন প্রকার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ইজারাদার সহ অংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় নগরীর চাঁদমারীতে পুলিশ অফিসার্স মেসে কোরবানীর পশুর হাটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে এক আলোচনা সভায় বিএমপি কমিশনার এই হুশিয়ারি দিয়েছেন। এসময় তিনি আরো বলেন, হাটগুলোতে যাতে করে কোন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখার মুল দায়িত্ব হচ্ছে ইজারাদারদের।
পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন আরো বলেন, কোরবানী উপলক্ষে মহানগরীকে নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ঘিরে রাখবে নগর পুলিশ। টহল টিমের পাশাপাশি থাকবে পেট্রোল (পায়ে হাটা) টিম এবং সিভিল পুলিশর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। এছাড়া হাট গুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন তারা। প্রতিটি হাটেই ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প থাকবে। প্রতারক চক্রকে সনাক্ত এবং তাদের প্রতিরোধে লক্ষ রাখা হবে। কেউ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড সংঘটিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতারা পুলিশের সহযোগিতা চাইলে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্থ করেন পুলিশ কমিশনার।
এদিকে আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি হাটে অপারেটরসহ কমপক্ষে ১টি করে জাল টাকা সনাক্তকরন মেশিন রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরন, হাট কমিটি কর্তৃক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন ও অপারেটর এবং পশু চিকিৎসকদের হাটে প্রবেশ পথে বসার ব্যবস্থা করা, ইজারাদার কর্তৃক হাটের হাসিল প্রকাশ্যে টানানো এবং কোন ক্রমেই সরকার নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করা, সকল পশুর হাটে রাত্রিকালীন পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিতকরন, প্রয়োজনে জেনারেটরের ব্যবস্থা নিশ্চতকরন, হাটে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথে হাট কমিটি কর্তৃক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ, পশুর হাট দ্বারা রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা, জোরপূর্বক এক হাটের গরু অন্য হাটে বিক্রি করতে বেপরীদের বাধ্য না করা, পশু পরিবহনে যে কোন প্রকার চাঁদাবাজী ও নিয়ম বহির্ভূত চেকিং বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, পশু চিকিৎসক কর্তৃক কোরবানীর পশু পরীক্ষাকরণ ও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে মোটাতাজাকরনকৃত পশু বিক্রয় রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, পশুর হাটে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, বেপারীদের পশু বিক্রয়ের টাকা পরিবহনের সময় প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ, কোরবানীর দিন সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ব্যতীত যত্রতত্র পশু জবাই রোধকল্পে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রত্যেক হাট কমিটির সদস্যবৃন্দ সার্বক্ষনিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সকল প্রকার সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মাঝে মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল কালাম আযাদ ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম সহ নগর পুলিশের কর্মকর্তা, বিভিন্ন হাটের ইজারাদার এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।