পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে অপহৃত ছাত্র উদ্ধার ॥ পুলিশের উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’র  ছাত্রাবাসে অপহৃত এক ছাত্রকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে পলিটেকনিকের প্রধান ছাত্রাবাসে এই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হামলা এবং অপহরনকারী ছাত্রলীগের ২৫ নেতা-কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এছাড়া ছাত্রাবাস থেকে অপহৃত ছাত্র এবং ছুরি সহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে ঘটনার মূলহোতা পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান ফাহিম, তার সহযোগী ইমরান (২০), আল আমিন (২১), হাসিব হাওলাদার (১৯), কাওসার হোসেন (১৮) ও মারুফ (২০) সহ ২৫ জন। বিকাল সাড়ে ৪টায় বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।
এদিকে রাতে এই ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১৮ জনের নাম উল্লেখ্য করা ছাড়াও বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে দায়েরকৃত দুটি মামলার বাদী পুলিশ এবং অপর একটি মামলার বাদী অপহৃত ছাত্র দ্বীপ কুমার পাল। রাতে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র দ্বীপ কুমার পাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য ঢাকা থেকে বরিশালে আসে। সকাল ৭টার দিকে সে বাস থেকে নামার পরে নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাকে পলিটেকনিকের প্রধান ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে আসে কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের নেতা আসাদুজ্জামান ফাহিম। ছাত্রাবাসের পঞ্চম তলায় ৫০১ নম্বর রুমে দেবকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। এমনকি চাঁদা আদায়ের জন্য ছাত্রকে হলের মধ্যে আটকে রেখে বিদ্যুৎ শক দেয়ার পাশাপাশি প্লাস দিয়ে তার শরীরের চামড়া এবং নখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে।
সহকারী কমিশনার আরো জানান, দাবীকৃত চাঁদা না দিলে দেব নামের ওই ছাত্রকে জবাই করে হত্যার ভয় ভীতি প্রদর্শন করে। গোপন সংবাদের বিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহৃত দেব কুমার পালকে উদ্ধার করে। এ সময়  ছুরি সহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সাথে অপহরনকারী ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান ফাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তখন ফাহিমের সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে অভিযানকারী পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ফাহিমকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়। এর মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমান নামে একজন গুরুতর আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের উপর হামলার খবর পেয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর প্রধান ছাত্রাবাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে ছাত্রাবাসের চার দিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়। পরে ছাত্রাবাসের মধ্যে অভিযান চালিয়ে ফাহিম সহ ২৫ জনকে পুলিশ আটক করে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান। এরা সবাই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র। তবে ফাহিম বাদে আটককৃত অন্য কোন আসামীদের নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করে সহকারী কমিশনার বলেন, অনেককে সন্দেহজনক ভাবে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সাথে জড়িত কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে জড়িতদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানান, অপহরন, সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহরনের ঘটনায় অপহৃত ছাত্র নিজেই বাদী হয়েছেন। বাকি দুটি মামলার বাদী হয়েছে পুলিশ।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিলো তাদের মধ্যে ১৮ জনকে তিনটি মামলার আসামী করা হয়েছে। এরা হামলা এবং অপহরনের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া আরো অনেকেই রয়েছেন ঘটনার সাথে জড়িত। এজন্য মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের নাম মামলায় অন্তভুক্তির পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।