পলিটেকনিকে ৫ বছর পূর্বের সহিংসতার পুনরাবৃর্ত্তির চেষ্ঠায় ছাত্রলীগ

রুবেল খান॥ থামছে না বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বেপরোয়া কর্মকান্ড। সোমবার রাতে দফায় অস্ত্রের মহড়া ও সংঘর্ষের পর গতকাল মঙ্গলবার পূনরায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পূনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে তারা। বেলা ১২টার দিকে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে এ ঘটনার সময় পুলিশ বেপরোয়া ছাত্রলীগের উপরে করেছে লাঠি চার্জ। এতে আহত হয়েছে বহিরাগত সহ ৬ জন। এর মধ্যে তিনজনকে ভর্তি করা হয়েছে শেবাচিম হাসপাতালে।
এদিকে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দেশের আলোচিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ৫ বছর পূর্তি হয়েছে গত ৪ঠা মে। আর ৫ বছর পরে এসে গত ৪ঠা মে রাতে একই ঘটনা পূনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা। পাঁচ বছর পূর্বে ঘটে যাওয়া দেশের আলোচিত এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সব আসামী খালাস পাওয়ার মাত্র ৭ দিনের মাথায় একই স্থানে ধারালো অস্ত্র হাতে ঘটনার পূনরাবৃত্তি সাধারন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
পূর্বের সেই ইতিহাস স্মরনে রেখে ছাত্রলীগের এমন প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রতিহত করতে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা গেলেও খবর নেই দলীয় সিনিয়র নেতাদের। তবে অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের জেলা ও মহানগর নেতাদের অদৃশ্য ইন্দোনেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইনস্টিটিউটটি। যেমনটি হয়েছিলো ২০১০ সালের ৪ঠা মে। এ কারনেই ছাত্রলীগের বর্তমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ড গত ৫ বছর পূর্বের সেই ঘটনার দিকেই গড়াচ্ছে। এমনটিই আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রমতে, পূঞ্জিকা অনুযায়ী আজ থেকে ৫ বছর পূর্বে দিনটি ছিলো ২০১০ সালের ৪ঠা মে। ঐদিন দুপুরের দিকে আধিপত্ত বিস্তারকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিলো পলিটেকনিক ছাত্রলীগ নামধারী দুই গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। মুহুর্তের মধ্যেই শুরু হয় ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে কোপা-কুপি। এতে আহত হয়েছিলো ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন। তখনকার সময় বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজান গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটলেও এর ইন্দোনে ছিলো মহানগর ছাত্রলীগের তখনকার আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকজন। যে কারনে ঐ ঘটনার পর পরই ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিলো নগর ছাত্রলীগের কমিটি।
এদিকে গত ৪ঠা মে ২০১০ সালের সেই ঘটনার ৫ বছর পূর্তি হয়েছে। আর চলতি বছরের ৪ঠা মে সোমবার রাতে ঠিক সেই দিনেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আরো একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পূনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে ছাত্রলীগের বিবাধমান দুটি গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। রাতভর ধারালো অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হলেও গভীর রাতে পূনরায় শেবাচিম হাসপাতালের সামনে এবং অভ্যন্তরে চিকিৎসাধিন ছাত্রকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা। দুটি গ্রুপই নিশ্চিত করেছেন গত সোমবার রাতের ঘটনাটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক এবং নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন গ্রুপের মধ্যেই ঘটেছে। এর পেছনে তাদের ইন্দোন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সন্ত্রাসীদের কোপে আহত ছাত্ররা।
অপরদিকে রাতের ঘটনার পর থেকেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট উত্তপ্ত হয়েছিলো। ক্যাম্পাসে ছিলো থমথমে পরিবেশ। রাত পোহালে পূনরায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে পূরায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশংকা করেছিলো হলের ছাত্ররা। তাদের ভাবনাটাই যেন সত্যি হয়েছে। কেননা গতকাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পূনরায় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলোপাথারী লাঠি চার্জ করে দুই গ্রুপকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি তারা। গতকালের ঘটনাটি ধুমপান করাকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবী করেছে। তবে ধুমপানের ঘটনাকে ইস্যু করে সোমবার রাতের ঘটনার পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা। আর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ফলে সাধারন ছাত্র এবং আসপাশের বাসিন্দারা পুলিশের লাঠি চার্জের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আহতরা।
এদিকে পলিটেকনিক ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় হামলা এবং সংঘর্ষ ঘটে চললেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন বরিশাল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এমনকি ছাত্রলীগের সিনিয়র পর্যায়ের নেতাদেরকেও দেখা যাচ্ছে না ক্যাম্পাস শান্ত করতে কোন প্রকার পদক্ষেপ নিতে। যার ফলে সাধারন মানুষ, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাত করছে ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ বর্তমানে জেলা এবং মহানগর ছাত্রলীগে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অদক্ষতার জন্যই আজ বরিশাল ছাত্রলীগের এমন করুন হাল। আর এদের জন্যই ২০১০ সালের ঘটনাও ঘটেছিলো। ঠিক সে ভাবে করেই আবার নতুন করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আলোচিত অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি গ্রুম। এমনটিই অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এখনই ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধারা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন সাধারন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহল।