পলিটেকনিকে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত-৭

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংর্ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাতের এই ঘটনায় বহিরাগত ও ছাত্র মিলিয়ে মোট ৭ জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে ছাত্রবাসের ২০১ নং কক্ষসহ একাধিক জানালার কাঁচ। এ সময় দই পক্ষের মধ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি। ছাত্রবাসের আবাসিক ছাত্র কম্পিউটার বিভাগের ৪র্থ বর্ষের মহসিন জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দাতা ইমন, সোহাগ, জসিম, সাইদুল, জুয়েল, সামসুদ্দিন ফয়সাল, তৌহিদ, সবুজ, জাহিদ ও মারজান ছাত্রবাসের ২০১ নং কক্ষে জোরপূর্বক মাদক সেবন করতে আসে। এ সময় তাদের বাধা দেয় ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র জহিরুল ইসলাম তামিম। সে ওই কক্ষের ছাত্র। এ সময় ইমন ও সামসুদ্দিনের নেতৃত্বে তামিমকে বেধরক মারধর করে ঐ সকল মহানগর ছাত্রলীগের পরিচয় দাতা বহিরাগতরা। এ খবর ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে পড়লে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক অনুসারীরা একত্রিত হয়ে বহিরাগতদের উপর হামলা চালায়। এতে দুপক্ষে তুমুল সংর্ঘর্ষ তৈরি হয়। ভাংচুর করা হয় ২০১ নং কক্ষটি। এতে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বহিরাগত ঐ সকল ছাত্রলীগদের সহায়তা করতে আসে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত তাদের অনুসারীরা। তবে ততক্ষণে অপর পক্ষ ও সাধারন শিক্ষার্থীদের গণধোলাই খেয়ে ইমন, জাহিদ, সবুজ, মারজান আহত হয়। কিছুক্ষনের মধ্যে ছাত্রবাসে পুলিশ এসে পড়লে তাদের সামনে থেকেই পালিয়ে যায় বহিরাগতরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, জেলা মহানগরের নামে দুই গ্রুপে বিভক্ত এ সকল ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রায়শই মাদক সেবনের মত বিতর্কীত কাজ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। গত সপ্তাহে রায় দেয়া পলিটেকনিকে দেশের আলোচিত কোপাকুপির ঘটনাকে উদাহরন দিয়ে তারা উদাহরন দিয়ে থাকে। তাদের দাবী সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া, কাউকে কুপিয়ে জখম করলেই বড় নেতা হওয়া যায়। যা বিগত আমলে তারা দেখেছেন। আর ক্ষমতার আমলে এর বিচার কি হয় তাও তাদের খুব ভালো ভাবে জানা আছে বলে গর্ব ভরে সকলের সামনে বলে থাকেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোতয়ালি মডেল থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এই ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। তবে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে আছে।

এদিকে, পলিটেকনিক কলেজে হামলায় আহত ইলেকট্রনিক্স ৩য় বর্ষের ছাত্র তামিমকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার সহযোগী ইলেকট্রনিক্স ৩য় বর্ষের ছাত্র অভিক ও ইলেকট্রনিক্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মহসিন তামিমের জন্য ঔষধ কিনতে হাসপাতালের সামনে বের হলে প্রতিপক্ষের ছাইদুল, সালমান, মামুন তাদের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাত ১২টায় পুনরায় হামলা চালায়। অভিককে ফার্মেসীর সামনে ও মহসিনকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের গেটে ফেলে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই ছাত্রলীগ ক্যাডাররা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পলিটেকনিক কলেজ ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে।