পলাশপুর থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ ব্যাগ উদ্ধার প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ ভিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর পলাশপুর এলাকা থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মোবাইল সেটসহ ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি ভর্তি ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল রোববার দুপুরে ওই অভিযানের বিষয় নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছে, ছাত্রলীগের নগরীর ৬নং ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদককে ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ওই ব্যাগ উদ্ধার করে।
তবে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ডিবি) মো. আবু সাঈদ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এটা অপপ্রচার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নগরীর পলাশপুর ৫নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ব্রীজ সংলগ্ন হযরত শাহ জালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মাদক ব্যবসায়ী মান্না সুমনের ভাতিজা ছাত্রলীগের ৬নং সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স মাহামুদ সোহেলকে ৪৭৯ পিস ইয়াবাসহ আটক করে ডিবি পুলিশের দল। পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে ওই ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করে জানায়, মান্না সুমন ইয়াবার ডিলার হলেও ব্যবসার নেতৃত্ব দেয় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সম্পাদক প্রিন্স মাহামুদ সোহেল। এ নিয়েই একই ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ সুজনের সাথে তার বিরোধ চলছে।
এসি আবু সাঈদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন নগরীর পলাশপুর ৫নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর ব্রীজ সংলগ্ন হযরত শাহ জালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মাদক ব্যবসায়ী মান্না সুমনের বাসায় ইয়াবা ব্যবসা হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি’র এসআই মিলন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি দল মান্না সুমনের বাসায় তল্লাশি করে। ডিবি পুলিশের দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ে আগে ভাগেই পালিয়ে যায় মান্না। পরে তার বাসার পেছনে একটি প্লাষ্টিকের ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পায় ডিবির দল। পরে ব্যাগের মধ্যে থেকে একটি বগি দা, একটি চাপাতি, একটি ছুরি ও ৭টি মোবাইল সেটসহ ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদী উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কাউনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা মালামাল হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগ সম্পর্কে এসি আবু সাঈদ বলেন, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও মোবাইল সেটসহ পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্যাগ উদ্ধারের ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক প্রিন্স মাহমুদ সোহেলকেসহ দুইজনকে রাখা হয়েছে। এই জন্য অভিযানিক দলের নেতৃত্বে থাকা ডিবির এসআই মিলন বিশ্বাস তাকে কার্যালয়ে এনেছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সোহেলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রিন্স মাহামুদ সোহেল অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ব্যাগভর্তি অস্ত্র ও মোবাইল সেট উদ্ধারের জন্য সাক্ষী দেয়ার বিষয়টি সভাপতি শেখ সুজন জানতে পেরে তাকে ফোন করে ইয়াবাসহ আটক হয়েছি কিনা জানতে চায়। এরপর থেকে ইয়াবাসহ আটকের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েছে অভিযোগ করেন তিনি।
ইয়াবা ব্যবসায়ী মান্না সুমন তার চাচা কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গেছেন।