পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পরে স্বর্ণালংকার উপঢৌকন গ্রহনের দায়ে সেবা দপ্তরের পরিচালক ওএসডি ॥ আজ আসছে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের কার্যক্রম এবং নার্সিং কলেজ পরিদর্শনে এসে চাঁদাবাজীর টাকায় উপঢৌকন গ্রহনকারী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অধিনস্ত নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রপ্ত) নাসিমা পারভীনকে ওএসডি করা হয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার এবং বিদেশী শাড়ি উপঢৌকন গ্রহনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি আজ বৃহস্পতিবার বরিশালে আসছেন। সকাল সাড়ে ৮টা হতে শেবাচিম হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা শেষে পাঁচ দিবসের মধ্যে মতামত সহকারে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মহা-পরিচালক। দৈনিক আজকের পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশের পর এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ তদন্ত কমিটি দুর্নীতির তদন্তে বরিশালে আসলেও বিষয়টি সাধারন নার্সদের কাছে গোপন রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শেবাচিম হাসপাতালের উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক এর বিরুদ্ধে। তিনি তদন্তের বিষয়টি গোপন করে কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসবেন বলে প্রচার করছেন। পাশাপাশি পরিদর্শনে আসার বিষয়টি উল্লেখ করে নোটিশও টানিয়ে দিয়েছেন নোটিশ বোর্ডে ফলে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর পূর্বে গত ২৯ জুন বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় শেবাচিম হাসপাতাল, সদর (জেনারেল) হাসপাতাল এবং বরিশাল নার্সিং কলেজ পরিদর্শনে আসেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রপ্ত) নাসিমা পারভীন। এসময় শেবাচিম হাসপাতালের নার্সদের পক্ষ থেকে তাকে ১৭ হাজার টাকা মূল্যের কানের স্বর্ণের ঝুমকা ও শাড়ি, নার্সিং কলেজের পক্ষ থেকে ২৭ হাজার টাকা মূল্যের গলার হার এবং সদর হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে ১০ হাজার ৮শ টাকা মূল্যের একটি বিদেশী শাড়ি উপঢৌকন গ্রহন করেন নাসিমা পারভীন। বিষয়টি নিয়ে সাধারন নার্সদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সাধারন নার্সদের দেয়া চাঁদার টাকায় স্বর্ণালংকার ও শাড়ি ক্রয় করা হলেও তা দিয়ে নার্সিং কর্মকর্তাকে খুশি করে পদোন্নতির পরিকল্পনা লবিং করেন গুটি কয়েক নার্সিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে শেবাচিম হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতী পেতে উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক গায়েত্রি সমাদ্দার, উপ-তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি পেতে নার্সিং সুপারভাইজার ও ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি মলিনা মন্ডল, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সেলিনা আক্তার, নার্স নেতা সাইফুল ইসলাম রনি, নার্সিং কলেজের ইন্সটেক্টর আলী আজগর। তারা পদোন্নতির আশায় পরিচালককে উপঢৌকন দিয়েছেন। এমনকি তারাই সাধারন নার্সদের প্রতি চাপ সৃস্টির মাধ্যমে বিভিন্ন হারে চাঁদা আদায় করে।
এদিকে পরিদর্শনে এসে নার্সদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার এবং সাড়ি উপঢৌকন গ্রহনের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে গত ৩০ জুন আজকের পরিবর্তনে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাছাড়া আজকের পরিবর্তনে প্রকাশিত সংবাদটি দুটি জাতীয় দৈনিকে হুবহু প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে যায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে ৩ জুলাই ডিজিএনএম/শা-১/২এন-২২/২০১৭/৩৬১৪/১(৭) স্মারকে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদার স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রপ্ত) নাসিমা পারভীনকে ওএসডি করা হয়। এছাড়া ৪ জুলাই মহা-পরিচালকের স্বাক্ষরিত আদেশে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শিক্ষা) সবিতা রানী মুখার্জীকে সভাপতি করে গঠিত তদন্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে মহাখালী সেবা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক মঞ্জুয়ারা বেগম ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কো-অর্ডিনেটর ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. খায়রুল কবীরকে। কমিটির নেতৃবৃন্দকে কমিটি গঠনের ৫ দিবসের মধ্যে মতামত সহকারে মহা-পরিচালক বরাবর প্রতিবেদ জমা দানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার ৫ জুলাই তদন্ত কমিটির সভাপতি সবিতা রানী মুখার্জী স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়েছে, গঠিত তদন্ত টিম আজ ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বরিশালের তিনটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে গমন পূর্বক সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন আদেশ গতকাল বুধবার বরিশালে এসে পৌছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের কায়েকটি সূত্র। তদন্ত কমিটির বরিশালে আগমনকে ঘিরে সাধারন নার্সদের মাঝে অনেকটা স্বস্থি দেখা দিয়েছে। তারা নার্সিং কর্মকর্তার উপঢৌকন গ্রহন এবং পদোন্নতীর জন্য ওই কর্মকর্তাকে খুশি করতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের খুশিকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কাছে তথ্য তুলে ধরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।