পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দুুই ট্রাফিক পুলিশ ক্লোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশে মুসল্লীদের নিয়ে আসা রিজার্ভ বাসের চালক ও হেলপারদের কাছ থেকে পার্কিং এর নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের এক এটিএসআই সহ দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোর রাতে নগরীর রূপাতলী ২৫ নং ওয়ার্ডের আদর্শ সড়কের এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে আপাতত মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে এব্যাপারে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন এটিএসআই ওয়াসিম এবং কনষ্টেবল মো. চান। তবে ঘটনার সময় তাদের সাথে সালেক নামে এক সোর্স থাকলেও স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় সে। অবশ্য জড়িত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দাবী ভিন্ন। তাদের দাবী মাদক এবং জুয়ার আসর বসানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে বাস শ্রমিকরা নিজেরা বাঁচতে তাদেরকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী বনফুল পরিবহন কোম্পানির একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-০২৭৯) চালক মো. আব্বাস উদ্দিন জানান, তারা চরমোনাই মাহফিলে মুসল্লীদের নিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে বরিশালে আসেন। রিজার্ভ বাস হওয়ার কারনে অন্যান্য বাসের সাথে তাদের বনফুল বাসটিও নগরীর রূপাতলী ২৫ নং ওয়ার্ডের আদর্শ সড়কের একটি মাঠে রাখেন। শুক্রবার ভোর রাতের দিকে তিনি সহ বাসের অন্যান্য শ্রমিক নূরুজ্জামান, আলম এবং সাহেব সহ ৬ শ্রমিককে বাসের মধ্যে তাস খেলতে ছিলেন। ঠিক সেই মুহুর্তে এটিএসআই ওয়াসিম, কনষ্টেবল চান সহ তিনজন বাসের মধ্যে আসেন। এসে বাসের মধ্যে ফেন্সিডিল আছে দাবী করে বাসের সকল শ্রমিকদের জিম্মি করে ফেলেন তারা। এক পর্যায় তাদের সাথে থাকা টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।
বিষয়টি টের পেয়ে ট্রাফিক পুলিশের সাথে থাকা সালেক নামক ব্যক্তি টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও এটিএসআই ওয়াসিম এবং কনষ্টেবল চানকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক এবং এলাকাবাসী। এক পর্যায় তাদেরকে কুড়িগ্রাম থেকে মুসল্লীদের নিয়ে আসা আলাবুল (ঢাকা মেট্রো- জ-১১-১১৭৩) নামের অপর একটি বাসের মধ্যে নিয়ে আটকে রাখে। দীর্ঘ সময় তারা বাসের মধ্যে অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি নগর পুলিশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেন সহ পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ট্রাফিক বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা দুই ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তবে তাদের থানায় না নিয়ে ট্রাফিক কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে দিনভর বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক কার্যালয়ে বৈঠক করেন কর্মকর্তারা। এসময় জড়িত দুই ট্রাফিক পুলিশ এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির লোকেদের জিজ্ঞাসা করা হয়। আপাতত তাদেরকে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এটিএসআই ওয়াসিম এবং কনষ্টেবল চান মিয়া। তারা বলেন, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর টোল ঘর এলাকায় দায়িত্ব পালন কালে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন আদর্শ সড়কের মধ্যে মাহফিলের গাড়িতে মাদক এবং জুয়ার আসর বসেছে। এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা খুঁজে পান। তখন থানা পুলিশকে অবহিত করার আগেই শ্রমিকরা নিজেদের দায় এড়াতে ছিনতাই’র নাটক সাজায়। এমনকি তাদের গাড়ীর মধ্যে আটকেও রাখে। পরে থানা এবং ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হন বলে দাবী করেন তারা। এমনকি শ্রমিকদের কাছ থেকে কোন টাকা কিংবা মোবাইল সেট ছিনতাই’র অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবী তাদের।