পরকীয়া প্রেমের কারণে স্বামীর হাতে খুন হয় উজিরপুরের রেশমা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ উজিরপুরের ধামুরায় গৃহবধূ রেশমা হত্যা রহস্যের জট খুলেছে। পরকীয়া প্রেমের জের ধরে হত্যার পর রান্না ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে স্বামী। এমনই সত্যতার স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দেন স্বামী সোহরাব হাওলাদার। গতকাল মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তরুণ বাছাড় ১৬৪ ধারায় সোহরাবের জবানবন্দী রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে আকটকৃত স্বামী সোহরাব ও পরকীয়া প্রেমিক সান্টুকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও মোঃ আলী হোসেন জানান, সোহরাব তার জবানবন্দীতে উল্লেখ করেন ২০ বছর পূর্বে উজিরপুর ধামুরা গ্রামের ছত্তার হাওলাদারের মেয়ে রেশমাকে বিয়ে করে। সোহরাব পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। পরে তাদের ৩টি সন্তান হয়। প্রায় দেড় দছর পূর্বে রেশমা ধামুরা বাজারের বেকারির মালিক সান্টু বেপারির সাথে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পরে। বার বার নিষেধ করার পরও রেশমা একই কাজ করে। ঘটনার দিন গত রোববার রাতে খাবার খেয়ে সবাই এক সাথে ঘুমিয়ে পরে। কিছু সময় পরে রেশমা তার স্বামীকে ঘুমে রেখে বাহিরে যায়। রাত আড়াইটার দিকে ফিরে এসে স্বামীর পাশে শুয়ে থাকে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে সোহরাব ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে রেশমাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে পরকিয়া প্রেমিক সান্টুকে ফাঁসাতে তার বেকারির রান্না ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। এমন জবানবন্দী গ্রহণ শেষে বিচারক তাদের দুজনকেই জেলে প্রেরণের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য হত্যার ঘটনায় রেশমার ভাই শাহিন হাওলাদার রনি বাদী হয়ে ৯ মার্চ উজিরপুর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ সোহরাব ও সান্টুকে ঐ মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন। এর পূর্বে ৯মার্চ স্বামী সোহরাব ও প্রেমিক সান্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।