পরকিয়া প্রেম করায় তাড়িয়ে দেয়ায় গ্রাম্য সালিশদার গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ গৌরনদী উপজেলার টরকী এলাকার রামনগর গ্রাম থেকে পরকিয়া প্রেম করায় এক সন্তানের জনকের ও চার মাসের অন্তঃস্বত্তা কিশোরীর পরিবারকে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার গৌরনদী থানায় করা মামলার আসামী হিসেবে সালিশদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সে হলো- রামনগর গ্রামের বাচ্চু ফকির। এর আগে তাড়িয়ে দেয়া অন্তঃসত্তা কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গৌরনদী থানার ওসি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরেজমিনে তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে নগরীর মরকখোলা পোল এলাকার নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়া অন্তঃস্বত্তা কিশোরী ও তার পরিবারকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন দুপুরে অন্তঃস্বত্তা কিশোরী প্রিয়া আক্তার বাদি হয়ে প্রেমিক শহিদ ফকির, গ্রাম্য মোড়ল (সালিশদার) স্থানীয় প্রভাবশালী বুলবুল দেওয়ান, আবুল হোসেন ফকির, বাচ্চু ফকির, মতিন খলিফা, জামাল খলিফা, আলম ফকিরসহ ১২ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে বাচ্চু ফকিরকে গ্রেপ্তার করে।
ওই গ্রামের মৃত ধোনাই ফকিরের পুত্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এক সন্তানের জনক শহিদ ফকিরের সাথে প্রতিবেশী সোবাহান খলিফার ষোড়শী কন্যা প্রিয়া আক্তারের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে প্রিয়া চার মাসের অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বুলবুল দেওয়ান, আবুল হোসেন ফকির, বাচ্চু ফকির, মতিন খলিফার নেতৃত্বে সোবাহানের বাড়িতে সালিশ বৈঠক করে। বৈঠকে অন্তঃস্বত্তা প্রিয়ার অপারেশন ও থানা পুলিশ ম্যানেজের নামে শহিদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরে উভয় পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর আদায় করে তাদের (উভয় পরিবারকে) গ্রাম থেকে বিতারিত করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই রাতেই শহিদ ফকির তার স্ত্রী লিজা বেগম, চার বছরের একমাত্র পুত্র নুর ইসলাম হিমান্ত ও বৃদ্ধা মা বকুল বেগম এবং অন্তঃস্বত্তা প্রিয়া আক্তার তার বাবা সোবাহান খলিফা, মা ও ছোট বোনকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।
আবুল হোসেন ফকির বলেন, যা কিছু হয়েছে তা গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়েছে।