পদোন্নতি বানিজ্য ১০ পুলিশ সাময়িকভাবে বরখাস্ত

রুবেল খান॥ পদোন্নতি বানিজ্যে ফেঁসে যাওয়া বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের তিন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহ ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। গত শনিবার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের এক লিখিত আদেশে তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়। সেই সাথে পদন্নতি প্রদানের জন্য প্রদানকৃত ঘুষের টাকা পরিষদের জন্য নির্দেশ করা হয়েছে লিখিত আদেশে। তাছাড়া উপ-পলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আভাস পাওয়া গেছে।
সাময়িক বরখাস্তের তালিকায় রয়েছেন রিজার্ভ অফিসের এএসআই আনিসুজ্জামান, এএসআই (বিএমপি নং ৯০) মনির হোসেন, নায়েক (বিএমপিনং ৩৩৫) মো: কবির হোসেন , ড্রাইভার (কংনং ৯৭৮) শহীদুল ইসলাম, (কংনং ৩৬৩) বাবলু জোমাদ্দার , রেশন স্টোরের (কংনং ৭৯৭) মো: আব্বাস উদ্দিন, (কংনং ৭২২ ) আরিফুর রহমান, ডিবির কনস্টেবল (কংনং ৪১৩ ) তাপস কুমার মন্ডল, ড্রাইভার (কংনং ৫২৫) দোলন বড়াল। এ ছাড়া কোতয়ালী মডেল থানা থেকে সদ্য বদলি হওয়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দফতরের এসপিবিএন’র এএসআই হানিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আরেক আদেশে।
এদিকে ঘুষ বানিজ্যের অপরাধে নি¤œ পদস্থ পুলিশ সদস্যদের সাময়িক ভাবে বহিস্কার করা হলেও আপাতত ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে বিএমপি’র ঘুষ বানিজ্যের রাঘব বোয়ালরা। তবে পর্যায়ক্রমে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএমপি পুলিশের দায়িত্বশিল সূত্র।
বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা পদন্নতি বানিজ্যে নেমে পড়েন। পুলিশের এএসআই থেকে এসআই, নায়েক থেকে এএসআই এবং কনস্ট্রবাল থেকে এসএসআই পদে পদোন্নতি পায়িয়ে দিতে বেশ কিছু পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন সংখ্যায় ঘুষ গ্রহন করেন পুলিশের ঐ কর্মকর্তা। এ নিয়ে বরিশাল মেট্রো পলিন পুলিশ মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বরিশাল ছাড়িয়ে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স পর্যন্ত ছাপিয়ে যায়।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হলে ঢাকা হেড কোয়ার্টার্সে ডেকে নেয়া হয় কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির সহ আরো দুই কনস্ট্রাবলকে। এরপরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে পদোন্নতিতে ঘুষ বানিজ্যের নেপথ্যের ঘটনা। প্রকাশে চলে আসেন আদৃশ্যে থাকা বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান।
হেড কোয়ার্টার্সে দেয়া মনির’র তথ্য অনুযায়ী উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান’র নির্দেশে তিনি পদোন্নতি পেতে আগ্রহী পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে সর্বনিম্ব ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহন করে। ঘুষের টাকা এএসআই মনিরের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়। তবে এর মধ্যে ব্যাংক হিসাবে ১৬ লক্ষ টাকার সন্ধ্যান পাওয়া গেলেও বাকি টাকার সন্ধ্যান লাভ করতে পারেনি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স। জিজ্ঞাসাবাদের পর পরই এএসআই মনির সহ তিন জন কনস্ট্রাবলকে প্রাথমিকভাবে ক্লোজ করার পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করেন হেড কোয়ার্টার্সের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত’র জন্য পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়।
গঠিত তদন্ত কমিটির অভিযোগের সত্যতা পেলে বিষয়টি ঢাকা হেড কোয়ার্টার্সকে অবহিত করেন তদন্ত কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এএসআই মনির সহ ১০ জনকে সাময়িকভাবে বহিস্কারের নির্দেশ দেন। এছাড়া যাদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহন করা হয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় হেড কোয়ার্টার্সের থেকে। এর মধ্যে তিনজন এএসআই, একজন নায়েক এবং বাকিরা সবাই কনস্ট্রাবল। তবে এদের মধ্যে মনির সহ কয়েকজন স্থায়ীভাবে চাকুরী হারাতে পারেন বলেও পুলিশের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।
এদের পাশাপাশি পদোন্নতি বানিজ্যের মূল হোতা বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রো পলিশন পুলিশের কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী এবং তদন্ত কমিটিতে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহম্মেদ এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিভিস করেননি।