পদবিহীন ৮ নেতার নিয়ন্ত্রনে ছাত্রলীগ ॥ নেতাকর্মীরা বিভক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি পুনঃগঠন না হলেও ঘটেছে নেতৃত্বের পালাবদল। ইতিপূর্বে পদধারী নেতাদের হাতে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রন থাকলেও তা চলে গেছে এখন পদবিহীন নেতাদের কাছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কলেজ ইউনিট পর্যন্ত সর্বত্রই পৃথকভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন ছাত্রলীগের ৮ নেতা। আর ৮ নেতার কারণে কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে তিন ছাত্রনেতার জেলায় পদ-পদবী থাকলেও তারা মহানগরের রাজনীতি নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন। জেলার অবশ্য এদের মধ্যে চার নেতার মহানগর থেকে শুরু করে ওয়ার্ড এবং কলেজ ইউনিট পর্যন্ত সর্বত্রই তাদের আধিপত্য ছড়িয়ে পড়েছে। এসব নেতাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আগামী কমিটিতে নেতৃত্বে আসা।
সূত্রমতে, ২০১১ সালের ৯ জুলাই বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে মহানগর শাখায় মো. জসিম উদ্দিনেকে সভাপতি এবং অসীম দেওয়ানকে সাধারন সম্পাদক ও জেলা শাখায় মো. হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাতকে সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাককে সাধারন সম্পাদক করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদী এই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণর কিছু দিন পরে জেলা ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিলেও মহানগর ছাত্রলীগ ৩ সদস্যতেই সীমাবব্ধ থেকে যায়। যে কারনে মহানগর ছাত্রলীগে নেতৃত্বের সুযোগ পায়নি বহু ত্যাগী এবং পরীক্ষিত ছাত্র নেতারা।
এদিকে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ৬ বছরে পদার্পন করেছে। তার পরেও নতুন কমিটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত। তাই দলের সকল আন্দোলন সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও তাদের নামের সাথে যুক্ত হচ্ছে না পদ-পদবী। ফলে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা অনেকটাই হতাশ। তবে সাংগঠনিক পদে না আসতে পারলেও বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের পালাবদল ঘটিয়েছে পদবঞ্চিত নেতারা। মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটির পদধারী নেতাদের পেছনে ফেলে তৃনমুল ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রনে এসেছেন পদবিহীন নেতারা। মেয়াদ উত্তীর্ণ নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়েই ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থেকে তারা নিয়ন্ত্রন করছেন মহানগর, ওয়ার্ড এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। তাদের ইশারাতেই প্রত্যেকটি ইউনিটে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সকল ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। তবে নেতৃত্বের এই পরিবর্তন হাতে গোনা ৮ নেতার মাধ্যমে ঘটেছে। এর বাইরে আরো কয়েকজন থাকলেও তারা নেই আলোচনায়। আবার যে ৮ জন আলোচনায় আছেন, তাদের মধ্যে মাত্র চার জন নিয়ন্ত্রন করছেন গোটা জেলা, মহানগর, ওয়ার্ড এবং কলেজ ছাত্রলীগের শাখাগুলো।
এরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক সেরনিয়াবাত, মাইনুল ইসলাম এবং রইচ আহমেদ মান্না। এদের মধ্যে সাজ্জাদ বাদে বাকি তিনজনই পদবিহীন নেতা। সরকারি বিএম কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজী (আইএইচটি) সহ সকল সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ তাদের ইশারাতেই চলছে। এর মধ্যে আবার মাইনুল ইসলাম এবং অনিক সেরনিয়াবাত এর নেতৃত্ব পরিলক্ষিত হচ্ছে কলেজ শাখার পাশাপাশি মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ডেও। এছাড়া ছাত্রনেতা হিসেবে কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে সক্রিয়তা প্রকাশ পাচ্ছে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত এর ক্ষেত্রে। এদিকে চার ছাত্র নেতার বাইরেও কলেজ পর্যায়ে ছাত্রলীগের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রন করছেন আরো ৪ নেতা। এরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকউল্লাহ মুনিম। তিনি নিয়ন্ত্রন করছেন সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। তার পাশাপাশি বিএম কলেজ এর কিছু অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অনিক সেরনিয়াবাত এবং রইচ আহমেদ মান্না। একটি সময়ে এই কলেজটির নিয়ন্ত্রন করতেন মঈন তুষার এবং নাহিদ সেরনিয়াবাত। সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এর নিয়ন্ত্রন করছেন মাইনুল ইসলাম এবং জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সোহেল। ইতিপূর্বে এখানকার ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক ছিলেন রেজাউল ইসলাম বাপ্পি। অবশ্য বর্তমান সময়েও কলজটিতে তার অনেকাংশে আধিপত্য রয়েছে।
সরকারি বরিশাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন এবং সাধারন সম্পাদক মাসুম ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন। বরিশাল কলেজ ছাড়াও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও তার নিয়ন্ত্রন রয়েছে। অবশ্য পলিটেকনিকের বিশাল একটি অংশের নিয়ন্ত্রন করছেন সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত।
এছাড়া মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বরিশাল কলেজ, আইএইচটি, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত এবং অনিক সেরনিয়াবাত এর একক নিয়ন্ত্রন লক্ষ্য করা গেছে।
অবশ্য মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক অসিম দেওয়ান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পদবঞ্চিত এই নেতাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।