পদত্যাগ করলেন এ্যাড. শিরিন ॥ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সরোয়ার

রুবেল খান ॥ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ার স্থানীয় পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষনা দিলেন এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন। গতকাল দলীয় কার্যালয়ে মহিলা দলের এক আলোচনা সভায় মহানগর মহিলা দল থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দেন তিনি। এদিকে এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়নে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। কেন্দ্র এবং মহানগর দুটি পদেই তিনি থাকবেন নাকি এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন করবেন সে প্রশ্ন দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে। অবশ্য তিনি মহানগর বিএনপি’র পদ ছাড়বেন বলে আভাস মিলেছে। তাছাড়া সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান সহ বিভাগের অন্যান্য নেতাদের কেন্দ্র থেকে তৃনমূলের পদ ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্রমতে, বিএনপি’র গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এক নেতার এক পদ নীতি সংযুক্ত করেন দলের নীতি নির্ধারকরা। সে অনুযায়ী যে নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির পদে থাকবেন তাকে ছাড়তে হবে স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় পদ। আবার স্থানীয় পর্যায়ে পদ নিয়ে রাজনীতি করতে চাইলে তাকে ছাড়তে হবে কেন্দ্রের পদ। এমনকি সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রনয়ন করা হয়েছে। এদিকে সম্প্রতি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়। এর পূর্বে আংশিক কমিটি হিসেবে মহাসচিব, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষনা করা হয়। তিন দফায় ঘোষনা হওয়া বিএনপি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের নেতাদের পদের জোয়ার বসে। তবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেলেও এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন করছিলো না বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের নেতারা।
বিশেষ করে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন সহ অপর দুই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের স্থানীয় পর্যায়ের পদ ছাড়া না ছাড়ার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে।
সেই আলোচনার কিছুটা হলেও অবসান ঘটিয়ে মহিলা দলের বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন। গঠনতন্ত্র ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত’র প্রতি সম্মান জানিয়ে গতকাল শুক্রবার সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ে মহিলা দলের আলোচনা সভায় ৩০ ওয়ার্ড নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে এই ঘোষনা দেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি এক নেতার এক পদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা একটি ভালো উদ্যোগ। এতে এক নেতা দুটি পদ ধরে রাখতে পারবে না। তৃনমুল পর্যায়ের বঞ্চিত নেতাদের দলে মূল্যায়ন বৃদ্ধি পাবে। যে কারনে তিনি কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে বরিশাল মহানগরের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষনা করেছি। ঢাকায় গিয়ে দাপ্তরিকভাবে পদত্যাগ পত্র জমা দিবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে গতকাল মহিলা দল আয়োজিত প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার’র। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে অনেকটা কানাঘুষাও শুরু হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ বলছে- সভায় বিলকিছ আক্তার শিরিন মহানগরের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দেয়ার বিষয়টি তিনি আগে ভাবেই জানতে পেরে সভা এড়িয়ে যান। কেননা ঐ সভায় একজন পদত্যাগ ঘোষনা করলে তাকে (মজিবর রহমান সরোয়ার) মহানগর বিএনপি’র সভাপতির পদে থাকবেন নাকি সরে যাবেন সেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। যে কারনে কৌশলগত কারনে তিনি মহিলা দলের আলোচনা সভায় এড়িয়ে যান।
অপরদিকে সভায় না আসলেও মজিবর রহমান সরোয়ার মহানগর বিএনপি’র পদ ছেড়ে দিবেন বলে গুঞ্জন রটেছে। যে কারনে মহানগর সভাপতির পদে আসতে অনেক নেতার নামও ইতিমধ্যে দলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার নিজ থেকে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করেননি। তবে ইতিপূর্বে পরিবর্তনকে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, এক নেতার একপদের যে নীতি প্রনয়ন করা হয়েছে সেই নীতি তার জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা স্থানীয় পর্যায়ের পদে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হবেন এবং কেন্দ্রের পদ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে ইনএকটিভ তাদের ক্ষেত্রে এক নেতার এক পদ নীতি প্রযোজ্য। তবে তিনি কেন্দ্রের পদে থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনা করে এসেছেন। যে কারনে এই নীতি তার জন্য প্রযোজ্য নয় বলেও তখনকার সময়ে এক স্বাক্ষাতকারে জানিয়ে ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তখন পরিবর্তনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এদিকে বরিশাল বিভাগ থেকে সহ-সাংগঠনিক পদ পাওয়া বিএনপি’র উত্তর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জেলা কমিটির পদ ছাড়বেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। কেন্দ্রের সিন্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পদ ছাড়তে রাজি বলে তার রাজনৈতিক সহচররা নিশ্চিত করেছে। এর বাইরে বরিশাল বিভাগ থেকে যেসব নেতারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তাদেরকেও তাদের স্থানীয় পর্যায়ের পদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।