নৌ-বন্দর ফিটফাট প্রবেশ পথ বেহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আসন্ন ঈদকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বরিশাল আধুনিক নৌ বন্দরের অভ্যন্তরে। কিন্তু এতো ব্যস্ততার মাঝে নজর রাখার সময় হচ্ছে না নৌ বন্দরের বাইরের দিকটাতে। ফলে বন্দরের গেট থেকে শুরু করে চর কাউয়া খেয়া ঘাটে কাদা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে জরাজীর্ন পরিবেশ। যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না কেউ। ফলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বড় ধরনের ভোগান্তি পোহানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, নগরীর আধুনিক নৌ বন্দরের প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দাড় চর কাউয়া খেয়া ঘাটের পাশে। এ দাড় থেকে লঞ্চে আসা মালামাল উঠা নামা করানো হয়। শুধু তাই নয়, চর কাউয়া এলাকা থেকে ট্রলারে আসা যাওয়া করা যাত্রীদের নৌ বন্দরে প্রবেশ করতে হলে এই গেটটি দিয়েই করতে হয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যে জরাজীর্ন অবস্থায় পরিণত হয়েছে তাতে করে সুস্থ সভাবিকভাবে সড়কটি দিয়ে চলাচল এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নৌ বন্দরের পশ্চিম পাশের এই গেটটির পাশে বৃষ্টির পানি জমে নর্দমার ভাগারে পরিনত হয়েছে। যে কারনে স্টিমার ঘাট জামে মসজিদ থেকে ডিসি ঘাট পর্যন্ত সড়কে হাটু সমান কাদা পানি জমে নাস্তানাবুথ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে আবার রাস্তার দুই পাশে বিআইডব্লিউটিএ’র জমি দখল করে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যে জন্য এখনই পথচারীদের চলাচল করতে গিয়ে কাদা পানিতে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই সড়কটিতে পায়ে হেটে চলাচল এক প্রকার বন্ধ হয়ে আছে বললেই চলে।
তবে আর কদিন পরেই নৌ বন্দরে ঈদে ঘুরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাবে। তখন বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এই গেটটি দিয়ে চলাচল করতে হবে। এতে করে সীমাহীন ভোগান্তির সম্মুখিন হতে হবে যাত্রীদের। এমনটিই অভিযোগ স্থানীয়দের।
তারা জানান, দীর্ঘ কয়েক বছর থেকেই এই রাস্তাটির বেহাল দশা। রাস্তার মাঝে খানা-খন্দ হওয়ায় সব মৌসুমেই জমে থাকছে পানি। বিশেষ করে বর্ষ মৌসুমে এর ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। কিন্তু এত বছরেও রাস্তাটির দিকে বিআইডব্লিউটিএ এমনকি নগর কর্তৃপক্ষের নজর পড়েনি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একাধিক বার মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দের জন্য পত্র পাঠিয়েছেন। কিন্তু আদৌ অর্থ বরাদ্দ দেয়নি। যে কারনে দীর্ঘ বছরেও রাস্তার উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।
তারা আরো বলেন, বন্দরের জমির থেকে রাস্তার বেশি অংশই সিটি কর্পোরেশনের অধিনে। উন্নয়ন কাজ তারাই করবে। তবে এ নিয়ে বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, এখানকার জমি নিয়ে একটু বিরোধ রয়েছে। তাই উন্নয়ন কার্যক্রমেও বিলম্ব হচ্ছে। তবে চলতি অর্থ বছরে রাস্তাটির উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে বলেও জানান তারা। তবে ঈদ উপলক্ষে কিছু করণীয় থাকলে তা নগর কর্তৃপক্ষ করবেন বলেও জানিয়েছেন প্রকৌশল শাখার প্রকৌশলীরা।