নৌ-বন্দরের ৩ পন্টুন ঝুঁকিপূর্ণ

চন্দন জ্যোতি॥ বরিশাল আধুনিক নৌ-বন্দরের দোতলা লঞ্চ ঘাটের ৩টি পন্টুন এখন চরম ঝুকির মধ্যে। অন্যদিকে বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথের গুরুত্বপূর্ন অধিকাংশ স্থানে নেই বয়াবাতি, বিকন এবং মার্কা। এসব কারনে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশংকা বিরাজ করছে। বরিশাল নৌ-বন্দর ও ঢাকাগামী লঞ্চের প্রথম শ্রেণীর মাষ্টারদের কাছ থেকে এমন সব কথা জানা যায়, অথচ তা সত্বেও যেন কুম্ভ-করনের ঘুমে মত্ত্ব রয়েছে বরিশাল নদী বন্দরের নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ। বন্দরের ৩টি টিপি পন্টুনের সাথে অপর পন্টুনের সংযোগ (বেধে রাখা) বোলার্ডগুলোর ১৮টির মধ্যে বর্তমানে ১২টি ভাঙা রয়েছে। এছাড়া বাকী ৬টির অবস্থাও বেশ নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে নদীর তীব্র ¯্রােত আর লঞ্চে বাদিং’র চাপে ঘাট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমনটি জানালেন প্রথম শ্রেণীর মাষ্টার মোঃ মজিবুর রহমান। তিনি জানান, এখনই পল্টুন ৩টি ঝুকির মধ্যে রয়েছে, অন্যদিকে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাদে আসন্ন দূর্গাপূজা ও ঈদ উপলক্ষ্যে যাত্রী চাপ ও লঞ্চের বাদিং (ভিড়ানো) সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এখন পল্টুনগুলোতে গড়ে প্রতিদিন প্রাং ১৮-১৯টি লঞ্চের বাদিং হবে। মাষ্টার মোঃ রুহুল আমিন জানালেন পল্টুনের বোলার্ডগুলো জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের জন্য আমরা নৌ-নিরাপত্তা, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ বেশ কয়েকবার জানালেও  কোন কাজ হয়নি। এছাড়া নৌ-পথের অধিকাংশ স্থানেই নেই বয়াবাতি, বিকন আর মার্কা। তিনি জানান, পন্টুনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক আর ভরা মৌসুমে উৎসব কালীন সময় আরো ভয়াবহতার আশংকা বিরাজ করছে। বন্দরের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বরিশাল বন্দরের অধীন ৮০টির মত পন্টুনের রক্ষণাবেক্ষন এবং নৌ পথের দিক নির্দেশনা মূলক মার্কা, বয়াবাতি ও বিকনের জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তার অধিকাংশ যাচ্ছে বরিশাল নৌ বন্দরের নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোঃ শাহজল হক’র পকেটে। তার একচ্ছত্র নিতীতেই তিনি চলছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে তিনি বেশ সমালোচিত। পন্টুন মেরামতের জন্য ২/৩ বার তাকে চিঠি প্রেরণ করা হলেও তার কোন সাড়া মেলেনি। বিষয়টি মোঃ শাহজল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, ইতিমধ্যে ৪টি’র মতো বোলার্ড ঠিক করা হয়েছে এবং বাকীগুলো ঈদের পূর্বেই ঠিক করা হবে।