নৌ-বন্দরের দালালদের ভূমিকায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর আধুনীক নৌ-বন্দরে নতুন দালালদের আবির্ভাব। লঞ্চের চিহ্নিত দালালদের দাবিয়ে রেখে তাদের স্থানটি দখলে নিয়েছে নৌ-পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যরা। তারা ঘাটের ভ্রাম্যমান হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার ছাড়াও লঞ্চে কেবিনের টিকেট কালোবাজারে বিক্রি ও ডেকে চাঁদর বিছিয়ে যাত্রীদের কাছে তা বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর চাঁদর বিছিয়ে লঞ্চের ডেকে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করেই গত শনিবার রাতে লঞ্চে নৌ পুলিশের নগ্ন হামলার শিকার হয়েছে এক যাত্রী ও তার পরিবার। কিন্তু বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে ধামা চাপা দিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
নৌ-বন্দরের লঞ্চের একাধিক দালাল এবং স্টাফরা বলেন, নৌ-যান এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ অনিয়ম বন্ধে পুলিশের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি যাত্রীরাও অনেকটা স্বস্তিবোধ করেন। কিন্তু নৌ-পুলিশের কার্যক্রম বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাদের বিরুদ্ধেই এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। নৌ-পুলিশের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগ সাজসে কনষ্টেবলরা এসব অপরাধ কর্মকান্ড ঘটিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
লঞ্চের একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা এবং সদস্যদের প্রতিদিনই কেবিন দিতে হচ্ছে। পুলিশের উপরস্থ কর্মকতা এবং তাদের আত্মীয় স্বজন আসা যাওয়া করবে এমন অজুহাত দেখিয়ে ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রতিটি লঞ্চ থেকেই ২ থেকে ৪টি পর্যন্ত সিঙ্গেল ও ডাবল কেবিন নিয়ে নেয়। পরে সেই কেবিনের টিকেট কালোবাজারে বিক্রি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, কেবিন ছাড়াও ডেক দখল করেও দালালি ব্যবসা করছে নৌ-পুলিশ সদস্যরা। প্রতিটি লঞ্চের নিচ এবং দ্বিতীয় তলায় ৫/১০টি চাদর বিছিয়ে আগে থেকেই জায়গা দখল করে রাখছে। পরে যাত্রীদের কাছে তা বিক্রি করছে একশ থেকে দুইশ টাকায়। ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে কনষ্টেবলরা প্রতিদিনই এমন কার্যক্রম ঘটিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেন লঞ্চের স্টাফরা। যার ফলে কেবিনের টিকেট এবং ডেকে জায়গা পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করা হলে নৌ-পুলিশ লঞ্চ কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে।
অপরদিকে ঘাটের হকাররা অভিযোগ করনে ফাড়ির পিএসআই মাহাবুব তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে। এ টাকা না দিলে তাদের ব্যবসা করতে দেয়া হয়না। এমনকি মারধর করে বলে অভিযোগ করেছে হকাররা। তারা আরো অভিযোগ করেন, পিএসআই মাহাবুব দল বিবেচনা করে হকারদের ব্যবসা করতে দিচ্ছে। যে আ’লীগের সমর্থক সেই হকারদের টার্মিনালের সামনে যে বিএনপি সমর্থক হকার তাকে টার্মিনালের বাইরে বসার অনুমতি দিচ্ছে।
লঞ্চ স্টাফরা বলেন, লঞ্চে কেবিনের দালালি, টিকেট কালোবাজারে বিক্রি এবং ডেকে চাদর বিছিয়ে সিট বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নৌ-পুলিশের ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম এবং পিএসআই মাহাবুব। এসআই নজরুল তার কনষ্টেবল বাহিনী দিয়ে এসব অনিয়ম এবং দুর্নীতি করলেও পিএসআই মাহাবুব নিজেই রাস্তার পাশের হকারদের কাছ চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেন ঘাটের ভ্রাম্যমান হকাররা।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল বলেন, আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রয়েছে। লঞ্চ স্টাফ বা কোন হকারকে আমরা হয়রানি করে থাকলে তারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করুক। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেলে তারাই আমাদের বিচার করবে। তাছাড়া অনেক আগে থেকেই নৌ-টার্মিনালে ভ্রাম্যমান হকারদের প্রবেশ নৌ-পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।