নৌ-বন্দরের জমি দখলে লাভবান পুলিশ-কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল আধুনিক নৌ বন্দরের জমি দখল করে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ইজারা নেয়া বা অনুমতি ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে স্থানীয়রা দখল করছে। আর সুবিধা নিচ্ছে নৌ পুলিশ এবং বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তাই প্রকাশ্যে দখল প্রতিরোধ বা উচ্ছেদ হয় না।
সরোজমিনে দেখা গেছে, নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম আধুনীক নৌ বন্দর এলাকা। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষের পদচারনায় মুখরিত থাকে। বিশেষ করে নৌ বন্দর সংলগ্ন চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সাধারন মানুষ অবস্থান করে। কিন্তু এই স্থানটি এখন প্রায় দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দখলে নিয়েছে নৌ বন্দর ভবন থেকে ডিসি ঘাট পর্যন্ত নৌ বন্দরের জমি। প্রায় অর্ধ শত দখলদার রাস্তা এবং ফুটপাত দখল করে স্থাপনা নির্মানের পথচারীদের পরতে হচ্ছে চরম বিড়ম্বনায়। ঠিক তেমনি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় সৌন্দর্যের হানি ঘটছে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় পানি জমে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সিটি কর্পোরেশন চর কাউয়া ঘাটে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালায়। দখল মুক্ত করে সৌন্দর্য বর্ধনের পরিকল্পনাও গ্রহন করে। কিন্তু বন্দর বিভাগের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের কারনে পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। আর সেই সুযোগে জমিও দখল হয়ে গেছে। ক্ষমতাসিন দলের স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তহারা লীগের নেতাদের দোহাই দিয়ে এক সময়ের ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীরা স্থায়ী ভাবে এখানে স্থাপনা নির্মান করেছে।
আলাপকালে অবৈধ দখলদাররা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে বলেন, তারা অবৈধ ভাবে দোকান ঘর নির্মান করে বানিজ্য করছেন। এই জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ এবং বাস্তহারা লীগের নেতারা তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহন করছে। এছাড়াও নৌ বন্দরের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম এবং পিএসআই মাহাবুব তাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে উৎকোচ নেয়। এর সাথে রয়েছে নৌ বন্দরের কয়েকজন কর্মচারী। তারা বন্দর কর্মকর্তাদের নামে প্রতিদিন উৎকোচ নেয়। তবে এদের কারা নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করে অবৈধ দখলদাররা বলেন, আমরা চাঁদা দিয়েও এখানে শান্তিতে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছি। কিন্তু এটা বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। তাই কষ্ট করে হলেও উৎকোচ দিয়েও ব্যবসা করতে প্রস্তুত আছি।
নৌ বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, যারা ঘাটে অবৈধ ভাবে জমি দখল করেছে। তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে কোন কর্মচারী চাঁদা আদায় করার অভিযোগের সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।