নৌ-পথে লঞ্চের ঈদ বিশেষ সেবা কাল শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আগামী শুক্রবার শেষ হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে ঈদের বিশেষ সার্ভিস সেবা। এর পর থেকে যাত্রীদের জিম্মি দশায় ফেলে পূনরায় শুরু হবে রোটেশন প্রথা।
এদিকে ঈদের পঞ্চম দিনেও লাখ লাখ মানুষ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বরিশাল থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেছে। তবে গত ক’দিনের থেকে গতকাল বুধবার বরিশাল নৌ বন্দর এবং জেলা বাস টার্মিনালে ঢাকা ফেরত যাত্রীদের ভীড় ছিলো তুলনামুলক অনেক বেশি। যে কারনে বরিশাল থেকে গতকাল দুটি লঞ্চ বেশি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল বরিশাল থেকে ১৪টি লঞ্চ বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে।
বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের লঞ্চ মালিক পক্ষ জানায়, গতকাল ছিলো ঈদের পঞ্চম দিন। এজন্য যাত্রীদের চাপ একটু বেশি ছিলো। তাই বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ১০টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঝালকাঠি এবং মঠবাড়িয়া রুটের সুন্দরবান-২ এবং এমভি ফারহান লঞ্চ বরিশাল ভায়া হয়ে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিসি’র এমভি মধুমতি সহ দুটি স্টিমার যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, গতকাল যাত্রীদের চাপ বেশি ছিলো। আজ বৃহস্পতিবারও কিছুটা ভীড় থাকবে। তবে এর পর ভীড় অনেকটাই কমে যাবে। তাই সর্বশেষ আগামী শুক্রবার ঈদ উপলক্ষে ঈদের বিশেষ সার্ভিস শেষ হবে। শনিবার থেকে পূর্বের নিয়মেই বরিশাল-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল করবে। তবে যাত্রীদের উপর নির্ভর করে দু-একটি লঞ্চ বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে যাত্রীরা জানায়, শুধু মাত্র ঈদ বা কুরবানী আসলেই লঞ্চ মালিকরা মহান হয়ে যায়। তারা যাত্রীদের সুবিদার কথা ভেবে বিশেষ সার্ভিসের নামে ডাবল ট্রিপ দিতে শুরু করে। কিন্তু ঈদ বা কুরবানি শেষ হলেই আবার স্বঘোষিত রোটেশন প্রথায় ফিরে যায়। ঈদ মৌসুমে মূলত যাত্রী সেবা নয়, নিজের পকেট ভাড়ি করতেই লঞ্চ মালিকরা রোটেশন প্রথা বাতিল করে বিশেষ সার্ভিসের নামে ডাবল ট্রিপ দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। তারা বলেন, রোটেশন পদ্ধতি ভালো। তবে তা যদি হয় যাত্রীবান্ধব।
তারা বলেন, বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে বড় বড় বেশ কিছু নৌ যান রয়েছে। যা দিয়ে এখন বেশ ভালো ভাবেই যাত্রী বহন করা সম্ভব। কিন্তু মালিকরা তা না করে রোটেশনের নামে ৩ থেকে ৪টি লঞ্চ চলাচল করছে। এতে যাত্রীরা নিয়মিত কেবিন পাচ্ছে না। তাই দালালদের কদরও বাড়ে। তাই জন সার্থে হলেও রোটেশন প্রথা বাতিলের দাবী জানান দক্ষিণের লাখ লাখ যাত্রী।