নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি উপেক্ষা করে বরিশাল থেকে ছেড়ে গেছে ১৪টি লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক নৌ শ্রমিকদের অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতির প্রথম দিন গতকাল তেমন একটা প্রভাব পড়েনি নৌযান চলাচলে।

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি উপেক্ষা করেই রাতে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ১৪টি লঞ্চ।

তবে সকালের দিকে কিছুটা অচল অবস্থা তৈরী হয়। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা যাত্রীবাহী নৌযানগুলো টার্মিনাল থেকে সরিয়ে নদীর মধ্যে নোঙ্গর করে রাখে। তবে রাতে কর্মবিরতি চলা অবস্থায় মালিকদের নির্দেশনায় বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে সকল যাত্রীবাহী লঞ্চ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

এদিকে লঞ্চ ছাড়া নিয়ে সন্ধ্যায় নৌ বন্দরে শ্রমিকদের মাঝে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগে সকালে ১৫ দফা দাবি আদায়ে নদী বন্দরে বিক্ষোভ মিছিল এবং এমভি ফারহান-৮ লঞ্চে হামলা এবং ভাংচুরের চেষ্টা করে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। তবে পুলিশের বাঁধায় ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি মালিকদের হস্তক্ষেপে বিকালে পুনরায় পন্টুনে লঞ্চ ভিড়ানো হয়।

অপরদিকে দিনের বেলায় নৌ যান শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে আভ্যন্তরীণ ১৮টি রুটের লঞ্চ যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বেশির ভাগ যাত্রীকে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে স্পীডবোট এবং ট্রলার যোগে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এ্যাসোসিয়েশন ও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল বিভাগীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একিন আলী জানান, বাংলাদেশ নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ’র আহ্বানে নৌ-শ্রমিকদের সর্বনি ১০ হাজার টাকা বেতন, কর্মস্থলে নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃনির্ধারণ, নদীর নাব্যতা রক্ষা সহ ১৫ দফা দাবি নিয়ে সোমবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে সারা দেশের ন্যায় বরিশালেও শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর নৌ বন্দর এলাকায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নৌযান শ্রমিকরা।

সকালে থেকে আভ্যন্তরীণ রুটের কোন লঞ্চ ছাড়তে দেয়নি আন্দোলনরত শ্রমিকরা। ফলে বরিশাল থেকে মেহেন্দিগঞ্জ, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, পটুয়াখালী এবং ঝালকাঠি সহ বিভিন্ন রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিলো। পূর্বে থেকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কথা না জানা যাত্রীরা ঘাটে এসে হতাশ হন। তবে বেশিরভাগ যাত্রী বিকল্প পদ্ধতিতে ট্রলার এবং স্পীড বোটে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

এদিকে বেলা ১১ টায় বরিশাল নৌ-বন্দরে এমভি ফারহান-৮ নামে লঞ্চটি বার্দিং করতে গেলে শ্রমিকরা তাতে বাধা দেয় এবং লঞ্চটিতে হামলার চেষ্টা চালালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের উপস্থিতিতে লঞ্চটি ঘাটে বার্দিং করানো হয়।

নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোতালেব হোসেন বলেন, যারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করলে তাতে বাধা নেই। এমনকি কেউ লঞ্চ চালালে তাতেও বাধা নেই। তবে লঞ্চ চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়লে সে বিষয়টি পুলিশ দেখবে।

এদিকে বাংলাদেশ নৌযান মালিক সমিতির কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, শ্রমিকদের কর্মবিরতি থাকলেও যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে রাতে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের যাত্রীবাহী ৮টি লঞ্চ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে বরিশাল থেকে ৫টি এমভি কীর্তনখোলা-২, পারাবত-১১, সুন্দরবন-১০, ফারহান-৮ ও সুরভী-৮ লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। এছাড়া ঢাকা থেকে পারাবত-১২, সুরভী-৭, টিপু-৭, কীর্তনখোলা-১ বরিশালের উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে।

এর বাইরেও ঢাকা-পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, মনপুরা রুটে নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে এমভি সুন্দরবন-৯ এবং এমভি আওলাদ সহ প্রায় ৮টির মত যাত্রীবাহী নৌ যান যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে আংশিক কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, নৌযান শ্রমিকরা যে দাবি তুলেছে তার বেশিরভাগ আমরা মালিক সমিতি থেকে মেনে নিয়েছি। বাকি যেসব দাবি থাকে তা টেবিলে আলোচনার মাধ্যমে মেনে নেয়া যেতে পারে। সেখানে দাবি আদায়ের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার যৌক্তিকতা নেই। তারপরেও প্রথম দিন যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেভাবে নৌযান চলাচল করবে। আজ বুধবার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।