নৈরাজ্য ও সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের প্রতিবাদে পিরোজপুরে সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুর প্রতিবেদক॥ দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে পিরোজপুর প্রেস ক্লাবে গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। বাংলাদেশ দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরাম এই সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শারি’র ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর ও বাংলাদেশ দলিত এন্ড মাইনরিটি হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার ফোরামের সদস্য রঞ্জন বকসী নুপু।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে প্রকট আকারে শুরু হয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চলছে। ১৯৮৬ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন একটি অপসংস্কৃতিতে রুপ নেয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে ও হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এমনকি হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়। অনেক নারী এ সময় তাদের সম্ভ্রম হারান বলে তিনি জানান। একটি তথ্য সূত্রের বরাত দিয়ে নুপু বলেন, ২০০১ সালের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ জন সংখ্যালঘু মানুষ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে হিন্দুদের উপর আবারও নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণার প্রতিবাদে জামায়াত-ই-ইসলামী একদিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মন্দির ভাংচুরসহ হিন্দু পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধের মামলার রায় ঘোষণার পরও হিন্দুরা একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে বলে দাবি করেন নুপু। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কারনের হিন্দুদের উপর নির্যাতন হয়েছে বলে জানান তিনি।
পিরোজপুর জেলায় হিন্দুদের উপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে নুপু বলেন, জেলার নাজিরপুর উপজেলায় সম্প্রতি একটি হিন্দু পরিবারের জমি দখল করেছে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একটি চক্র। একই উপজেলায় মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারি গ্রামে হিন্দুদের জমি দখল করে ইটভাটা তৈরী করা হয়েছে। এমনকি নির্যাতন সইতে না পেরে ৯ বছরের ব্যবধানে ৩২ টি হিন্দু পরিবার ওই এলাকায় তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। এছাড়া মঠবাড়িয়া উপজেলায় সম্প্রতি একটি মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়েছে।