নেতৃত্ব সংকটে শেবাচিম হাসপাতালের নার্সরা ॥ কর্মকর্তাকে সালাম না দেয়ায় পেয়েছে শোকজ নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নেতৃত্ব সংকটের কারনে শেবাচিম হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। সার্বক্ষনিক রোগীদের সেবায় নিয়োজিত নার্সদের তুচ্ছ অজুহাতে হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে শোকজ নোটিশ। কারনে অকারনে কৈফিয়ত তলব করা হচ্ছে। উপ-পরিচালককে সালাম না দেয়ায় এক নার্সকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও সাহসী নেতৃত্বের অভাবে নিরবে সহ্য করছেন নার্সরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নার্সরা জানায়, এখন তাদের সাইজ করা হচ্ছে কারনে অকারনে। বদলি আর মামলা দিয়ে হয়রানিসহ সালাম না দেয়ায় রোষনলে পড়তে হচ্ছে। নার্সরা জানায়, হেটে যাবার সময় হাসপাতালের উপ-পরিচারক ডা. আব্দুল কাদিরকে সালাম না দেয়ায় নার্সিং সুপারভাইজার কাজী সাহিদাকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। দক্ষ ও সাহসী নেতৃত্ব’র অভাবে সবাই বৈষম্য’র শিকার হচ্ছে। এক সময়ের শক্তিশালী সংগঠন ডিপ্লোমা নার্সেস এসোসিয়েশন ও স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ’র পদধারীরা এখন এগিয়ে আসছেন না। নার্সরা জানায়, দেশের প্রত্যেকটি চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানেরই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ নার্সরা। চিকিৎসক’র পরে রোগীর সেবা ও পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব তারা পালন করে থাকেন। রোগীর খাবার সরবরাহে সহযোগিতা, সময় মত রোগীদের হাতে ওষুধ তুলে দেয়া সহ চিকিৎসকের ব্যবস্থা রোগীদের বুঝিয়ে দেয়া, ভর্তি রোগীদের গ্রহন করা সহ সার্বিক বিষয়েই খোঁজ রাখছেন তারা। কিন্তু শেবাচিম হাসপাতালে সেই নার্সরা কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে সহকর্মীদের কাছ থেকে পাচ্ছেন অবজ্ঞা ও অসহযোগিতা। শিকার হচ্ছেন বৈষম্যের। গত কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনা এর প্রমান। শেবাচিম হাসপাতালে বর্তমান পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম’র আগমনের পর থেকে নার্সরা বৈষম্য’র শিকার হচ্ছেন। যার সুযোগ নিচ্ছেন চিকিৎসকরাও।
সাধারন নার্সরা জানিয়েছেন, শেবাচিম হাসপাতালে প্রায় আটশ নার্সের চাহিদা পুরনের জন্য একটি নার্সেস ক্যাফেটরিয়ার দাবী করেছিলেন স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি ও জেলার সাধারন সম্পাদক ফরিদুন নেছা, আব্দুল কাদের খান এবং সাহাবুদ্দিন খান। এজন্য পরিচালকের কাছে সব থেকে বড় শত্রু বনে যান এই তিন নার্স নেতা। আর তাই এই তিন নার্সকে বদলির জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তরে চিঠিও লেখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্ট্যান্ড রিলিজ হতে হয় তাদের তিনজনকে।
তাদের পরে হয়রানির শিকার হতে হয় স্টাফ নার্স এলিজা আক্তারকে। তার স্বামী শাহ আলম চিকিৎসকের উপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের দু’জনকেই পুলিশের হাতে তুলে দেন হাসপাতাল পরিচালক। এজন্য কয়েক ঘন্টা ৮ মাসের শিশু পুত্রকে নিয়ে হাজতে কাটাতে হয় তাকে। পরে আন্দোলনের মুখে থানা হাজত থেকে ছাড়া পান স্টাফ নার্স এলিজা। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। রোববার চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে এলিজাকে মামলার আসামী করতে বাধ্য হন পুলিশ। সে অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এলিজাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মাত্র ৮ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়েই জেলে দিন কাটাচ্ছেন এলিজা।
সচেতন নার্সরা বলছেন, দোষ করেছে এলিজার স্বামী। কিন্তু তার মাসুল গুনতে হচ্ছে এলিজা এবং তার আট মাস বয়সী শিশুকে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসক এর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছিলো সে জন্য শুধুমাত্র স্টাফ নার্স এর স্বামীই জড়িত নন। শিশু বহিঃর্বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরও কম বেশি দোষ রয়েছে। কিন্তু সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শোকজ নোটিশও দেননি।
নার্সদের হয়রানি শুরু নার্সেস ক্যাফেটেরিয়া দাবি করে। সেই দাবীতো পুরন হয়নি বরং হাসপাতালের একমাত্র স্টাফ কেন্টিনের বিশেষ কক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ওই কক্ষটি শুধুমাত্র ডাক্তার এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীরাই ব্যবহার করবে বলে নার্সদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নার্সদের মাঝে। কিন্তু মুখ কুলতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারন নার্স কিংবা নার্সিং সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া নার্স নেতৃবৃন্দও। তারা বলছেন, কিছু না বলে-করেও নার্সরা বদলি, মামলা এবং শোকজ খাচ্ছেন। সেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে চাকুরীর ক্ষতি করতে রাজি নন নার্স নেতৃবৃন্দ।