নেতাদের সহায়তা বঞ্চিত বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ

সাইদ মেমন/ জুবায়ের হোসেন ॥ দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম করে কারান্তরীণ এবং বিভিন্ন মামলার আসামী বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সামান্য সহযোগিতা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। জেল থেকে জামিনে বের হওয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, জ্যেষ্ঠ নেতা বা আইনজীবী নেতাদের কাছে মামলা বা কারান্তরীণদের পরিবার যোগাযোগ করলে তারা কোন ধরনের সহায়তা করে না। এমনকি কারান্তরীণদের জামিনে বের করার কোন ধরনের প্রক্রিয়া নিচ্ছে না জেলা ও মহানগরের নেতারা। এই কারণে চলমান আন্দোলনে ঘর থেকে নামার মতো সাহসটুকুও হারিয়ে বসেছে বিএনপির দূর্গ খ্যাত জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীরা। এতে জোরালো আন্দোলনের ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে অস্তিত্ব বিলীনের পথে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি।
তবে এই দাবি মানতে নারাজ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের সহায়তাসহ যাবতীয় ব্যয় বহন করতে আইনজীবী ফোরামের ১০ সদস্যকে নিয়ে কমিটি রয়েছে। তাদের কাছে বা আইনজীবী ফোরামের যে কোন সদস্যর কাছে গেলে সহায়তা পাবেন। বিএনপি অনেক বড় দল। তাই অনেকে নেতার সাথে তেমন পরিচিত না। তাহলে কিভাবে কমিটির কাছে যাবে। তারা হয়তো কমিটির কথা জানেই না।
সাম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া এক বিএনপি কর্মী অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে নাশকতায় মামলার আসামী দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়। তার খবর নিতে বা জামিন পেতে দলের কেউ এগিয়ে আসেনি। পরিবারের চেষ্টাই জামিনে বের হয়েছেন। ওই কর্মীর মন্তব্য “জ্যেষ্ঠ নেতাদের ডাকে আর বলির পাঠা হবেন না”। কারান্তরীণ বিএনপি কর্মীরাও দলের প্রতি পুরো হতাশ।
তিনি আরো জানান, জ্যেষ্ঠ নেতাদের কর্মীদের বিপদে পাশে না দাঁড়ানোর কারণে এখন কোন কর্মসূচিতে তৃণমূলের কর্মীরা আসে না। তারা এখন দলের কর্মসূচি পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এভাবে চলতে থাকলে নেতারা কর্মীবিহীন হয়ে পড়বেন।
একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের কর্মসূচি পালনে নেতারা আসেন না। ৫ জানুয়ারি থেকে ঝিমিয়ে পড়ছে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রাজপথে দখলতো দূরের কথা নিজ এলাকার শাখা সড়কটি দখলেও ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তবে নিজেরা পথে নামার আশ্বাস দিয়ে প্রশাসনের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালালেও তোপের মুখে ফেলেছেন তৃণমূলের কর্মীদের। কারণ গা ঢাকা দেয়া নেতারা আন্দোলন টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করেছেন তৃণমূলকে। বর্তমানে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন টিকিয়ে রেখেছে। আন্দোলনে সিনিয়রদের ব্যর্থতার জন্যই ভুক্তভোগী হচ্ছে তৃণমূল বলেও জানায় তারা। এজন্য তাদের জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে। তাই এখন কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনতো দূরের কথা নিজ বাস ভবনে রাত কাটাতেও পারছেনা তারা। আর এর ফলে ভেঙে পড়েছে দলের মেরুদন্ড। তৃণমূল নেতা কর্মীরা জানায়, সিনিয়র নেতাদের গা ছাড়া ভাবের আদেশ মানতে গিয়ে পুরো আন্দোলনের সময়টিতে আটক হয়েছে দেড় শতাধিক নেতাকর্মী। আটককৃতদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সিনিয়র বা পদবিওয়ালা নেতাকর্মী থাকলেও তার সিংহভাগই ছিল তৃণমূল। যাদের পড়তে হয়েছে একাধিক মামলায়। তবে যাদের ভরসায় আটক হওয়া তারাই ভাবছেন না তাদের কথা। তাই এখন ভবিষ্যতের আন্দোলনের ডাকে নেতা কর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তাও প্রকাশ করেছন অভিযোগকারী তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মী। তাদের দেয়া তথ্য ও সংগৃহীত মামলা ও আটকের তথ্যে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি থেকে গতকাল অবধি এই ৫৭ দিনে আন্দোলনে চোরা গুপ্তা, হামলা, অগ্নিসংযোগ ছাড়া প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচিই পালন করতে পারেনি ২০ দলীয় জোট। তবে প্রকাশ্যে না এলেও রেহাই পায়নি কেউ। ৫৭ দিনে নগরী থেকে ৭৩ ও বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে ৫৭ জন । প্রায় অর্ধশতাধিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ সকল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জেলার ১৪ থানায় মামলা হয়েছে ৩২টি। এ সকল মামলায় অধিকাংশই পুলিশের দায়েরকৃত। উক্ত মামলায় নামধারী ৮ শতাধিক নেতাকর্মী সহ অজ্ঞাত প্রায় দেড়হাজার নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। তাই এখন আন্দোলনতো দূরের কথা নিজে বাঁচলে বাপের নাম এই ভেবে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। আর জেলে বসে জামিনের আশায় রয়েছে আটককৃতরা।