নিয়তি ওদের জড়ালো দাফনের কাপড়ে!

॥ কাজী মিরাজ ॥
বড় কষ্টের! বড় নিষ্ঠুর আমাদের দেশের যাকাতের রাজনীতি। ভাবতে অবাক লাগে এ কোন ধরনের রাজনীতির শিকার আমরা। এমন একটি দেশে আমরা জন্ম গ্রহন করেছি যেখানে দরিদ্র মুক্ত করে সবাইকে সমানভাবে বেঁচে থাকার জন্য কাজ করে না। সবাই কাজ করে গরীব মানুষ মারার। তারা অসহায়দের পাশে দাঁড়ান লোক দেখানো। কোন ধরনের মানবিক দৃষ্টি থেকে তাদের সহযোগীতার হাত প্রসারিত হয়না কখনো। তাইতো বরাবরই দেখি পায়ের তলায় পৃষ্ঠ হয়ে গরীবদেরই মরতে। দেখে মনে হয় ওদের জীবনের যেন কোন মূল্যই নেই। যাদের সম্পদ আছেন তাদেরকে আল্লাহ যাকাত দিতে বলেছেন। কিন্তু সেই যাকাত প্রকাশ্যে দিতে বলেননি। বলেননি যাকাত দিয়ে ভোটের কিংবা জোটের রাজনীতি করতে। কোরআনে স্পষ্ট ঘোষনা করা হয়েছে তোমরা এমনভাবে যাকাত প্রদান করবে যাতে ডান হাতে যাকাত দিলে বাম হাতও টের না পায়। কিন্তু হায়! এই কি দেখছি আমরা। যাকাত এমনভাবে দেয়া হচ্ছে হাতের টের পাওয়াই নয় পায়ের নিচে পিষে মারা হচ্ছে দরিদ্র মানুষগুলোকে। আর মরার পর বড় জোর তাদের ভাগ্যে জুটছে দাফন কাফনের খরচ আর একটি তদন্ত কমিটি। এই কমিটি করা পর্যন্তই থাকে সীমাবদ্ধ। গতকাল এমন একটি খবর আমরা জানলাম যা শুনে চোখেন পানি ধরে রাখার সাধ্য কারোই নেই। এই নির্মম দৃশ্য দেখে কেউ ঠিক থাকতে পারেন না যাদের মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ববোধ আছে। আছে বিবেক বলে কোন বস্তুু? ময়মনসিংহ জেলায় যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৫ জন প্রান হারিয়েছেন পদদলিত হয়ে। এর মধ্যে শিশুও রয়েছেন। আরো অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছেন। গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটিও। ভাবা যায় একজন অসহায় লোক যাদের এক টুকরো নতুন কাপড় কেনার মত শক্তি সামর্থ নেই তারা গিয়ে ছিলেন একটি নতুন কাপড়ের আশায় কিন্তু সেই কাপড়ের পরিবর্তে তাদের দাফনের কাফন পড়ে চির বিদায় নিতে হবে। অথচ ঘটলো তাই। আর ঘটার কথাই। এমন ঘটনা আজকে নতুন নয় প্রতি বছরই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। নতুন কাপড় নিতে নিয়ে জড়িয়ে পড়তে হয় কাফনের কাপড়ে। বড় নিষ্ঠুর নিয়তি ওদেরকে সব সময় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। আমরা বুঝিনা একটি বেসরকারী কোম্পানী প্রকাশ্যে হাজার হাজার লোকের মাঝে কাপড় বিতরন করবে আর প্রশাসনের কোন অনুমতি নেবেনা। পুলিশ-প্রশাসন বলতে আসলে কিছু নেই বলা চলে। আজকে নতুন নয় বছরের পর বছর এভাবে প্রকাশ্যে যাকাতের কাপড় বিতরন করা হচ্ছে আর মানুষ মারছে। আজকে যাকাতের কাপড় দিতে গিয়ে যাদেরকে হত্যা করা হলো তাদের পেছনে যারা যাকাত দিয়েছেন তারাই দায়ী নয়। দায়ী স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনও। তাদের অনুমতি না নিয়ে কিভাবে প্রকাশ্যে কাপড় বিতরনের রাজনীতি শুরু করা হলো। ইসলামের রীতিনীতি মেনে এ দেশে যাকাত দেন এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন। যারা যাকাত দেন তাদের মূল্য উদ্দেশ্য আল্লাহকে রাজী খুশি করা নয়। উদ্দেশ্য নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে জাহির করা আর সেই সমাজসেবক জাহির করতে গিয়ে যারা এভাবে মানুষকে পিষে হত্যা করছে তারা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন কোন মানুষ হতে পারেন না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে দয়া করে এই যাকাত রাজনীতি বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিন। দরিদ্রদের পায়ের নিচে পিষে রাজনীতি করা দেশের জন্য শুভকর কিছু নয়। সরকারের উচিৎ হবে যাদের কারনে এভাবে পায়ের নিচে মানুষ পৃষ্ট হলো তাদের এমন শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া যাতে করে ভবিষ্যতে আর এ রকম যাকাত রাজনীতি করতে না পায়ে। যাকাত দিতে হবে রাতের আধারে বাড়ী বাড়ী গিয়ে যাতে করে অন্য কেউ টের না পায়। যাকাতের পরিবর্তে আর যেন কাউকে দাফনের কাফন পড়তে না হয়।