নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরিশালস্থ বাউফল সমিতির নির্বাচন সম্পন্নের তোরজোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ সমাজ সেবা অফিসের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্বাচন সম্পন্ন করতে তোরজোড় শুরু করেছে বরিশালস্থ বাউফল সমিতি’র একটি মহল। দীর্ঘদিন সমিতির গুরুত্বপূর্ন পদে থেকে লুটপাটের ঘটনা ধামা চাপা দিতেই সমিতির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার এ মিশনে নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য ইতোমধ্যে সমিতির সাধারন সদস্যদের ভয়ভিতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বরিশাল জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক মনোজ কুমার ঘরামি স্বাক্ষরিত এক আদেশ সূত্রে জানাগেছে, নির্বাচনের তফসিল এবং বর্তমান কমিটি অবৈধ সহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন স্থগিতের দাবী জানায় সাধারন সদস্যরা। এ অভিযোগের প্রেক্ষিত্রে জেলা সমাজ সেবা উপ-পরিচালক আগামী ২৫ ডিসেম্বরের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন। একই সাথে সমিতির আয় ব্যায়ের হিসাব, গঠনতন্ত্র, সদস্য সংখ্যা সহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত জমা দেয়ার জন্য সমিতির সভাপতি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনকে নিদের্শ করেন।
কিন্তু সমাজ সেবা অফিসের এই আদেশ মানতে নারাজ। কমিটির বর্তনাম সভাপতি ও তার অনুসারীরা। এজন্য সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের যোগ সাজসে নিশেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অবৈধ ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
সমিতির সাধারন সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সভাপতি গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছামত পছন্দের লোকজন নিয়ে মানুষকে ধোকা দিয়ে তাদের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সমাজ কল্যান অফিসের অনুমতি না নিয়ে একটি একটি সঞ্চয় প্রকল্প খুলে প্রতারনা শুরু করেছে। বাউফল সমিতির সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে জানতে পারলে সমিতির সভাপতি তড়িঘড়ি করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহি পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করে। কিন্তু গঠন তন্ত্র অনুযায়ী কমিটির কার্যনির্বাহী কমিটি হবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট। সদস্যরা আরো অভিযোগ করেন সমিতির উন্নয়নের নামে মাসে মাসে সদস্যদের কাছ থেকে যে চাঁদা উঠানো হয়েছে তার কোন হিসাব দিতে পারেননি কমিটির সভাপতি, সম্পাদক সহ অংশ্লিষ্টরা। এমনকি বাউফলের সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার সমিতির উন্নয়নের জন্য সভাপতির নিটক ৫০ হাজার টাকা অনুদান দিলেও সে টাকারও কোন হদিস নেই। সাধারন সভায় এ টাকার হিসাব চাওয়া হলে সমিতির সভাপতি কিংবা সম্পাদক কেউ সঠিক হিসাব দিতে পারেনি। এজন্যই নির্বাচন স্থগীতের জন্য সমাজ সেবা অফিসারের নিকট অভিযোগ দেয়া হয়েছে।