নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষায় ১৪ নৌ-যানের যাত্রা বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলজুড়ে শুরু হয়েছে ডেঞ্জার মৌসুম। এ মৌসুমে নদীতে নৌ-যান ডুবির ঘটনা বেড়ে যায়। আর তাই দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুকিপূর্ণ মৌসুমে বরিশাল বিভাগের ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার অন্তগত মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী আগামী ৭ মাসের জন্য ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করেছে বরিশাল নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই সময়ের মধ্যে নদীগুলোর প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার জুড়ে ছোট আকাড়ের নৌ-যান চলাচলের প্রতিও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন নৌ বিভাগের এই দপ্তরটির কর্মকর্তারা। এদিকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঝুকিপূর্ণ নদীতে অনুমতি ছাড়া ছোট নৌ-যান চালানোর অপরাধে ১৪টি নৌ-যানের যাত্রা বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল ১৬ মার্চ পর্যন্ত এই নৌ-যানের যাত্রা বাতিল করা হয়। নৌ-যান চলাচলে ঝুকিপূর্ন রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে- মেঘনার ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট, চর আলেকজান্ডার-দৌলতখান, চর আলেকজান্ডার-মির্জাকালু, চর আলেকজান্ডার-আসলামপুর, মনপুরা-তজুমদ্দিন, মনপুরা-শশীগঞ্জ, দশমিরা-চরকলমী, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর দশমিনা-চরমন্তাজ।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বরিশালের উপ-পরিচালক মো. আবুল বাশার মজুমদার পরিবর্তনকে জানান, বর্ষা মৌসুমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। এজন্য নদী দুটির বিভিন্ন পয়েন্ট মারাত্মক ভাবে ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। এইসব পয়েন্টে নৌযান চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। আর তাই প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৭ মাস নদীয়ের জন্য ডেঞ্জার মৌসুম হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এসময়ের মধ্যে শুধু মাত্র সি-ট্রাক ছাড়া ছোট আকারের নৌ-যান এবং বে-ক্রুজিং সনদ ছাড়া ঐসব রুটে নৌ-যান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের আহবান জানানো হয়। ইতোমধ্যে গত ৫ মার্চ এ বিষয়ে নৌ-যান মালিকদের চিঠি প্রদান করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আবুল বাশার মজুমদার। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী এবং বে-ক্রুজিং সনদ না থাকায় নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছোট বড় ১৪টি নৌ-যানের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এমনকি এই বিষয়ে নজরদারী এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নৌ-যান মালিকদের পাশাপাশি নদী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও চিঠি প্রদান করা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র মজুমদার জানান, বরিশাল-ইলিশা-মজুচৌধুরীরহাট রুটে খিঁজির-৭ ও ৮ নামে ২টি সি-ট্রাক চলাচলের জন্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি খিঁজির-৫ ও শেখ কামাল নামে আরো ২টি সি-ট্রাক ইজারা প্রদান করা হয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে সি-ট্রাক দুটি চলাচল শুরু হতে পারে বলে জানান তিনি।
তবে এসব সি-ট্রাক সকল রুটে চলানো সম্ভব হবে না। খিঁজির-৫ ও শেখ মনি নামের সি-ট্রাক ডক ইয়ার্ডে মেরামত কাজ চলছে। তাই এই মৌসুমে ঐ সি-ট্রাক দুটি চলানো সম্ভব হবে না। তবে যেসব রুট ডেঞ্জারজোন ঘোষনা করা হয়েছে তার অধিকাংশ রুটে আদৌ সি-ট্রাক সার্ভিস চালু হয়নি বলেও এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।