নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বাতœক ব্যবস্থা নেয়া হবে- সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, পেছনের যাই থাকুক, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কাজ করে প্রমান করবো, দল বা ব্যক্তির কাছে আমরা নত নই। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বানারীপাড়া ও গৌরনদী উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, নির্বাচন নির্বিঘœ করতে কোন ধরণের অনিয়মের আশ্রয় দেয়া হবেনা। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করবেন। বিগত দিনে যাই হোক, সামনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলে এবং পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে তার জন্য সকল ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, একটা সময় ছিলো রাজনৈতিক দল জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশগ্রহন করতো কিন্তু এখন তা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত এসে পৌছেছে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগীতা করতে হবে। তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে হবে এবং নির্বাচনী বিধি মানতে হবে।
উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই মূল লক্ষ্য। এর ব্যপ্তয় হবে না। এখানে সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কথা হয়েছে, তারা সে আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠ করার লক্ষে জিরো ট্রলারেন্স নীতি ব্যবহার করবো। সবাই নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবে, যার যার ভোট সে সে দিতে পারবে।
এসময় ইভিএম চালুর ব্যাপারে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি রয়েছে, তবে নিশ্চিত করে বলা যাবে না কবে নাগাদ এটার প্রচলন হবে। পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ইভিএম প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।
এদিকে উপ-নির্বাচনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা সভায় গৌরনদী উপজেলার পরিষদের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী এস এম মনজুর হোসেন মিলন, উপ-নির্বাচনে ভোটার ও এজেন্টদের নিরাপত্তা সহ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নের দাবীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটা অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৮ সাল থেকে ঐ উপজেলায় ভোটারগন কোন নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠ ভাবে অংশগ্রহন করতে পারেনি। এক কথায় সাধারন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। তাছাড়াও এই উপনির্বাচনের শুরু থেকে বিএনপি সমর্থিত কোন কর্মীকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না। এমনি নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার পর্যন্ত লাগাতে দিচ্ছে না। এছাড়াও প্রচার প্রচারনার জন্য মাইকিং করতে দিচ্ছেনা, কর্মীদের মারধরসহ ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আমার জীবন নাশের হুমকিসহ আমার নির্বাচনী কর্মীদেরও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে যাহারা আচরনবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারনা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং উল্টো তার কর্মীদের নানা ভাবে হয়রানি ও মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখানো হচ্ছে। এসময় তিনি অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করে বলেন, গৌরনদী উপজেলার প্রতিটি ভোট কেন্দ্র ঝুকিঁপূর্ন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট ভোটারদের সুষ্ঠু ভোট প্রদান নিশ্চিতকরনের জোর দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো: গাউস, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, র‌্যাব-৮’র অধিনায়ক লে: কর্ণেল আনোয়ার উজ জামান, জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো: সাইফুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান, আনসার ও ভিডিপির জেলা কম্যান্ড্যান্ট মো. কামাল হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হালিম খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহসান হাবিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।