নির্বাচনী সহিংসতার জেরে ঝালকাঠির ঘটনায় নরসিংদীর যুবককে ভিকটিম সাজিয়ে অপহরণ মামলা

ঝালকাঠি প্রতিবেদক ॥ ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় সদস্য প্রার্থীর ভাই নিহতের ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পাল্টা মামলা হিসেবে নরসিংদীর বালাপুর গ্রামের আ. রহিমকে অপহরণ মামলায় ভিকটিম দেখিয়ে ঝালকাঠি থানায় ১৬ জনকে আসামী করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সরোয়ার হোসেন মামলার ভিকটিম সংক্রান্তে জানার জন্য বাদীকে ভিকটিমের যাবতীয় তথ্য নিয়ে থানায় আসার জন্য নোটিশ দিলেও তিনি এখনও থানায় উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে আসামী পক্ষ নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার পাইকারচর ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অপহরণ মামলায় ভিকটিম দেখানো ‘ আ: রহিম, পিতা আ: হান্নান’ নামের কোন বাসিন্দা বালাপুর গ্রামে নেই বলে তথ্য পায়। যে কারণে ৩০ মার্চ পাইকারচর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল হোসেন ভূইয়া ‘বালাপুর গ্রামে আ. রহিম পিতা আ. হান্নান নামে কোন নেই’ মর্মে লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২২ মার্চ সকাল ১১টায় ঝালকাঠি সদর উপজেলার কালিআন্দার গ্রামে নবগ্রাম ইউপি নির্বাচনে ১নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী সজিব হোসেনের সাথে ভিকটিম আ: রহিমকে মামলার আসামীরা জীবননাশক অস্ত্র নিয়ে গুম করার উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মেম্বর প্রার্থী সজিবের মামা আবুল হোসেন রাঢ়ী বাদী হয়ে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৭ মার্চ নির্বাচিত মেম্বর চুন্নু শিকদারকে প্রধান আসামী করে ১৬জন নামধারী এবং ২০/২৫জনকে অজ্ঞাত আসামী করে নালিশী মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দিলে ঝালকাঠি থানা মামলাটি রেকর্ড করেন।
এ ব্যাপারে বালাপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আ. করিম, শ্রমিকলীগ সভাপতি হেলাল উদ্দিন ভূইয়া, বালাপুর বেবী স্ট্যান্ডের মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের মালিক শামিম ভূইয়া সাংবাদিকদের জানান, আমাদের চেয়ারম্যান কয়েকদিন আগে স্থানীয় বালাপুর নবনচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলার পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনার কথা জানালে আমরা রহিম, পিতা আ: হান্নানকে খুঁজতে থাকি। কিন্তু এ নামের কোন বাসিন্দা আমাদের এলাকায় না থাকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইউপি সচিবের দেয়া এবং আসামী পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত ৯০ পৃষ্ঠার ভোটার তালিকা তল্লাশি করলেও ওই নামের কোন ভোটারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
মামলার ১নং আসামী ও নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য চুন্নু সিকদার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সজিবের নেতৃত্বে তার লোকজন হামলা চালিয়ে আমার বড় ভাই আবুল কাশেম শিকদারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ওই মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অপহরণের অভিযোগ এনে এই মামলাটি দায়ের করে। প্রকৃতপক্ষে ওই ধরনের কোন ঘটনা এলাকায় ঘটেনি বলে তিনি মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবী জানান।
এ বিষয়ে অপহরণ মামলার বাদী আবুল হোসেন রাঢ়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাই তার বক্তব্য বলে দাবী করেন। তিনি আরো জানান, ভিকটিম রহিম তার ভাগ্নে মেম্বর প্রার্থী সজিবের বন্ধু কিন্তু সজিব হত্যা মামলায় আসামী হিসাবে বর্তমানে পলাতক থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।