নিখোঁজের একদিন পর পলিটেকনিক ছাত্র’র লাশ উদ্ধার ॥ পরিবারের অভিযোগ হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিখোঁজের এক দিন পরে মো. আতিকুর রহমান সজিব নামে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর এক ছাত্র’র লাশ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুর প্রতিরক্ষা পিলারের উপর থেকে রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে দিকে নগরীর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। পরিবারের অভিযোগ তাকে অপহরনের পরে হত্যা করে লাশ ব্রিজের প্রতিরক্ষা পিলারের উপর ফেলে দেয়া হয়েছে। আতিকুর রহমান সজিব নগরীর ২নং ওয়ার্ডস্থ কাউনিয়া বাশের হাট এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে এবং বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর কম্পিউটার বিভাগের ৪র্থ সেমিস্টারের ছাত্র। নিখোঁজের ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি সাধারন ডায়েরীও করা হয়। এদিকে সবুজ এর মৃত্যুর সংবাদে এলাকাজুড়ে শোকের ছাড়ায় নেমে এসেছে। পরের স্বজনদের মধ্যে চলছে স্বজন হারানো আহাজারী। নির্বাক মা মৃত সন্তানের মুখের দিকে তাকাতেই বার বার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। সহোদরকে হারিয়ে নির্বাক তার ভাইয়েরাও। নিহতের বড় ভাই রবিউল ইসলাম সুজন জানান, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে কলেজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় তার ভাই আতিকুর রহমান সবুজ। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। বাসায় না ফেরায় তার মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও কেউ তা রিসিভ করেনি। সর্বশেষ বিকাল ৪টার দিকে তার মুঠোফোনের ০১৭৪৯৩৩৯৮০২/০১৬৮৫০৭৯০৭৬ নম্বরে কল করা হলে দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। এতে স্বজনরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। তাছাড়া রাতে বাসায় না ফেরায় গতকাল রোববার মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় বড় ভাই সুজন বাদী হয়ে একটি সাধারন ডায়েরীও করেন।
সুজন জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন রোববার সন্ধ্যার দিকে দপদপিয়া এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর প্রতিরক্ষা পিলারের উপরে কোন এক ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। এমন সংবাদের উপর ভিত্তি করে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান তার ভাই’র মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় থানা ফায়ার সার্ভিস রাতে লাশটি উদ্ধার করে।
সুজন বলেন, আমরা যে কয়টি ভাই তার মধ্যে সজিব অত্যন্ত ভ্রদ্র-ন¤্র এবং মেধাবী ছিল। রাজনীতির সাথেও জড়িত নয়। বখাটে সহপাঠী বা বন্ধুদের সাথে তার চলাফেরা আড্ডা কখনই আমাদের চোখে পড়েনি। তার অভিযোগ সবুজকে কেউ অপহরনের পরে হত্যা করে লাশ গুম করতে ব্রিজের উপর থেকে নদীতে নিক্ষেপ করতে চেয়েছিলো। নয়তো হত্যা করে লাশ ওই স্থানে রেখে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে কি কারনে হত্যা কান্ডের অভিযোগ বা কারোর সাথে কোন বিরোধ ছিলো কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি সুজন।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) আবু তাহের বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কীর্তনখোলা নদীতে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর প্রতিরক্ষা পিলার এর উপর থেকে লাশটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করেন তারা। তবে এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত বলা সম্ভব হচ্ছে না। অবশ্য লাশের পা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ক্ষত দেখা গেছে। তাছাড়া মনে হচ্ছে তার হাত ভাঙ্গা অবস্থায় আছে। এটি হত্যাকান্ড হলেও পরিকল্পিতভাবে হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।