না ফেরার দেশে শিল্পপতি মজিবর রহমান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন খান সন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানির সত্ত্বাধীকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মজিবর রহমান খান। চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টাকে ব্যর্থতায় পরিনত করে সোমবার লন্ডনের নর্দান মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় রাত ২টায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হে রাজেউন। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর থেকে লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তাকে নিবির পর্যবেক্ষনের জন্য লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছিলো। মৃত্যু কালে মজিবর রহমান খান’র বয়স হয়েছিলো ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। লন্ডনে মৃত দেহের সাথে তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান রয়েছেন। লন্ডনে বড়দিনের অনুষ্ঠানের কারনে মৃত দেহ নিয়ে আসতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আগামী শুক্র অথবা শনিবারের মধ্যে স্বামীর মৃত দেহ নিয়ে তিনি দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন মরহুমের শ্যালক তাজবির জামান রানা। ঢাকায় তার প্রথম জানাযা শেষে নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে নগরীর মুসলিম গোরস্থানে তাকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হবে।
নগরীর কাটপট্টি রোডের বাসিন্দা মজিবর রহমান খান উজিরপুর উপজেলার সাকরাল গ্রামের শিক্ষানুরাগী প্রয়াত বন্দে আলী নেওয়াজ খান এর চার ছেলের মধ্যে তৃতীয়। জীবদ্দশায় শিল্পপতি মজিবর রহমান একজন সমাজসেবকও ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানি সহ খান সন্স গ্রুপের সকল প্রতিষ্ঠান এবং উজিপুরে বিএন খান ডিগ্রি কলেজে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়েছে। শোক কর্মসূচির মধ্যে থাকছে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারন, শোক সভা ও দোয়া-মোনাজাত।
মজিবর রহমান এর শ্যালক তাজবির জামান রানা বলেন, তার দুলাভাই গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে আমেরিকায় যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১১ ডিসেম্বর তাকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনের কার্নিভালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারনে তার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতেই মজিবর রহমান খান এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কোন সূত্রই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। সর্বশেষ গতকাল বুধবার সকালে এলাকার মসজিদের মাইকের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়।
অপরদিকে মজিবর রহমানের মৃত্যুর খবরে তার প্রতিষ্ঠান এ্যাংকর সিমেন্ট ও খান সন্স গ্রুপ অব কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। এর বাইরে বরিশালে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দও শোক প্রকাশ এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।