নাড়ীর টানে সড়ক ও নৌপথে ঝুঁকি নিয়ে আসছে যাত্রী

রুবেল খান ॥ আর দু-একদিন বাদেই পবিত্র ঈদ উল ফিতর। আর তাই স্বজনদের সাথে ঈদ উপভোগ করতে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ। বিমান, বাস এবং লঞ্চে ভোগান্তি নিশ্চিত জানেও গো-গাদাগাদী করে নারী টানে ফিরছেন তারা। বেশিরভাগ মানুষ ভ্রমনে আরামদায়ক বিধায় নৌ-পথকেই গন্তব্যে পৌছাবার বাহন হিসেবে দেখছেন। আর তাই ঈদ যাত্রার শেষ দিকে গতকাল শনিবার দ্বিতীয় দিনে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে শুধুমাত্র নৌ পথেই অর্ধ লক্ষাধীক মানুষ বরিশালে এসে পৌছেছে। পাশাপাশি সড়ক পথেও কয়েক হাজার যাত্রী এসেছেন দক্ষিণাঞ্চলে। শনিবার ভোর রাত থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত লঞ্চ, স্টিমার এবং দিবা সার্ভিসের জাহাজ ও সড়ক পথে উল্লেখিত সংখ্যক যাত্রীরা বরিশালে পৌছেছেন।
এদিকে লঞ্চ থেকে বরিশালে নামার পরেই গনপরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন ঘর মুখো যাত্রীরা। তাদেরকে জিম্মি করে দ্বিগুনের থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে নগর ভিত্তিক গহন পরিবহন এবং আভ্যন্তরিন রুটের বাস শ্রমিকরা। কিন্তু বিষয়টি যেন নজরে আসছে না প্রশাসনের।
সূত্রমতে, প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক, লঞ্চ এবং আকাশ পথে কয়েক লাখ মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে এসে থাকেন। তবে বেশিরভাগ যাত্রীই আসেন নৌ-পথে। সে অনুযায়ী এ বছর ঈদেও গনজোয়ারের ন্যায় লাখ লাখ মানুষ বরিশালে আসতে শুরু করেছে। প্রথম যাত্রায় নৌ পথে ১৫ সহ¯্রাধীক মানুষ সরকারি এবং বেসরকারি নৌ-যানে বরিশালে আসে। তবে এর সংখ্যা দ্বিতীয় দিনে ছাপিয়ে গেছে অর্ধলক্ষাধীকে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৌ-যানগুলো বরিশাল নৌ-বন্দরে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে পূণরায় ঢাকা সদর ঘাটের উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। গতকাল ভোর রাত থেকে এভাবেই রোটেশন প্রথা ভেঙ্গে দিন-রাত ঈদ যাত্রীদের জন্য বিশেষ সার্ভিস দিচ্ছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের সরকারি এবং বেসরকারি নৌ-যানগুলো।
বিআইডব্লিউটিএ’র বরিশাল কার্যালয়ের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, শনিবার ভোর রাত ৪টা হতে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোট ২২টি লঞ্চ ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালে এসেছে। এর মধ্যে শুক্রবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ১৫ লঞ্চ শনিবার ভোর রাতে যাত্রী নিয়ে বরিশালে এসেছে। পাশাপাশি বেলা ১২টার পর থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আরো ৭টি লঞ্চ বরিশালে এসে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। এর মধ্যে একটি গ্রীন লাইন এবং আরেকটি দিবা সার্ভিসের এমভি দেশান্তর।
তিনি বলেন, বিশেষ সার্ভিসের প্রথম যাত্রার তুলনায় দ্বিতীয় দিনের যাত্রায় যাত্রী এসেছে। ২২টি লঞ্চে আড়াই হাজার করে গড়ে ৫৫ হাজারের মত যাত্রী গতকাল এক দিনেই বরিশালে এসে পৌছেছে। তাছাড়া রাত ১০টার পরে গ্রীন লাইন সহ আরো ৪টি লঞ্চ বরিশালে আসে। সে অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনে নৌ-পথে বরিশালে আসা গড় যাত্রীর সংখ্যা ৭০ হাজার এর কাছাকাছি। এর পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়োমিত একটি জাহাজের সাথে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে আরো একটি নৌ-যান গতকাল সন্ধ্যার মধ্যেই বরিশালে এসে পূণরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংস্থার সহকারী মহা-ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ। বিআইডব্লিউটিসি’র নৌ-যানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার কোন সম্ভাবনা না থাকলেও আজ রোববার ভায়া রুট মিলিয়ে মোট ২৫টি লঞ্চ ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা রয়েছে বলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে শুধুমাত্র নৌ পথেই নয়, সড়ক পথের পরিবহন গুলোতেও যাত্রীদের ভিরে তিল ধরানোর ঠাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রায় প্রত্যেকটি বাসেই ধারন ক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে দক্ষিণালে আসছে। গতকাল ভোর রাত থেকে দিনভর সরকারি এবং বেসরকারি বাস ও মাইক্রোবাস যোগে কয়েক হাজার যাত্রী দক্ষিণাঞ্চলে স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে এসেছে বলে জানিয়েছেন ধারনা দিয়েছেন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব আহমেদ।
রাজধানী থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা এবং ভোগান্তি পেরিয়ে বরিশালে নেমে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীসাধানদের। গন্তব্যে পৌছাতে তাদেরকে গুনতে হচ্ছে বার্তি টাকা। ঈদ বকশিশ এর নামে প্রতেকটি গনপরিবহনেই সর্বনি¤œ ৫টাকার ভাড়া ১০ থেকে ১৫ টাকা করে রাখা হচ্ছে। শুধু নগর ভিত্তিক গনপরিবহনেই নয়। আভ্যন্তরিন রুটের যাত্রীবাহী বাসগুলোতেও যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষেরা। অর্থচ বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন নজর নেই বলেও অভিযোগ তাদের।