নাড়ীর টানে বাড়ী ফেরার যুদ্ধ শুরু

রুবেল খান ॥ শুরু হয়েছে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেলার যুদ্ধ। প্রিয় জনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ, স্টিমার এবং বাসে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। সেই সাথে ভাড়া বৃদ্ধি আর দালালের তৎপরতার পাশাপাশি তাদেরকে পোহাতে হচ্ছে পদে পদে সীমাহিন ভোগান্তি।
এদিকে ঈদে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে আইন ভঙ্গ করে যাত্রী বহন করছে লঞ্চ ও বাস কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ধারন ক্ষমতার কয়েকগুন বেশি যাত্রী নিয়ে নৌ রুটে পাড়ি জমাচ্ছে বরিশাল-ঢাকা সহ অভ্যন্তরিন রুটের লঞ্চগুলো। যাত্রীদের নিরাপত্তায় নামে মাত্র নানা মুখি পদক্ষেপ গ্রহন করা হলেও এমন স্বেচ্ছাচারিতা দৃষ্টি কাড়ছে না প্রশাসন কিংবা বন্দর কর্তৃপক্ষের। গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল আধুনীক নৌ বন্দরে যাত্রী নিয়ে আসা এমভি দ্বীপরাজ লঞ্চটির চিত্র দেখে এমনটিই অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সেই সাথে চলতি বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ নৌ যাত্রা বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় ইতোপূর্বে ঘটে যাওয়া একাধিক নৌ ট্রাজিডির ঘটনা।
সূত্রমতে, আজ ২৯ রমজান আকাশে চাঁদ হাসলে কাল অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের সব থেকে বড় ধর্মীও উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আর ঈদ-উল-ফিতরের এই আনন্দ পরিবার ও স্বজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে থাকা মানুষগুলো। সকল বাধা বিপত্তি আর পদে পদে সীমাহিন ভোগান্তি আছে যেনেও কোন রকম কষ্ট করে হলেও আপন জনদের কাছে ফিরছেন লাখ লাখ মানুষ। এ জেন নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরার গল্প।
এদিকে লঞ্চ এবং বাস কর্তৃপক্ষের মতামত অনুযায়ী ঈদ মৌসুমে সকল জেলা উপজেলার বা অঞ্চলের থেকে বরিশাল অঞ্চলে লোক বেশি আসে। এজন্য তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে কোন প্রকার রোটেশন প্রথা বাদ দিয়ে বিশেষ সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা সহ বিভিণœ অঞ্চল থেকে যাত্রীদের বরিশালে পৌছে দিচ্ছেন বাস এবং লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এজন্য ঢাকা থেকে বরিশালের বিভিন্ন রুটের ১৪টি বেসরকারী লঞ্চ এবং বিআইডব্লিউটিসি’র আরো ৬টি স্টিমার সহ প্রতিদিন মোট ২০টি জাহাজের মাধ্যমে ঈদে বিশেষ সার্ভিস দেয়া হয়। ইতোমধ্যে গত বুধবার ঢাকা থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু হয়েছে। সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিশেষ সার্ভিসের প্রথম লঞ্চ এমভি দ্বীপরাজ গতকাল বিকাল ৩টায় যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌ বন্দরে পৌঁছায়। বাকি লঞ্চগুলো এক এক করে রাতে বিভিন্ন সময়ে বরিশাল বন্ধরে পৌঁছায়। প্রথম দিনেই লঞ্চ এবং জাহাজ মিলিয়ে ১৮টি নৌযানে কয়েক লাখ যাত্রী বরিশালে পৌছেছে। আজ ২৯ রমজানে ঢাকা থেকে বরিশালের যাত্রী সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলেও বাদী করছেন লঞ্চ মালিকরা। শুধু লঞ্চেই নয়, বাদুর ঝোলা হয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস যোগে বরিশালে ফিরছে যাত্রীরা।
অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নৌ বন্দরে দেখাগেছে, বর্ষা মৌসুমেও জীবন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী বহন করছে লঞ্চ গুলো। বিকাল ৩টায় বরিশাল ঘাটে পৌছানো এমভি দ্বীপরাজ লঞ্চটির সর্বোচ্চ ধারন ক্ষমতা লেখা রয়েছে- ১২০০। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে তিন সহ¯্রাধিক যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চটি বরিশাল ঘাটে পৌছেছে। প্রশাসনিক কিংবা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার বাধা বিঘœ ছাড়াই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বরিশালে পৌছালেও নেয়া হয়নি কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ছাড়াও ঈদকে পুঁজি করে লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে। তার মধ্যে আবার আবেদন পদ্ধতিতে কেবিনের টিকেট দেয়া হলেও দালালদের মাধ্যমে লঞ্চে প্রথম শ্রেনীর কেবিনের টিকেট পেতে হচ্ছে। এতে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এমনকি লঞ্চের ডেকও থাকে দালাল, কুলি, কল ম্যান এবং লঞ্চ শ্রমিকদের দখলে। তারা যে যার মত ডেকে চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করে রাখছে। পরে তা একশ থেকে ২শ টাকা করে বার্তি টাকা দিয়ে ডেকের জায়গা কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে লঞ্চ শ্রমিক এবং দালালদের কাছে লাঞ্ছিতও হতে হচ্ছে যাত্রীদের। তার মধ্যে আবার লঞ্চে সকল প্রকার খাদ্য সামগ্রির মূল্য রাখা হচ্ছে কয়েক গুন বেশি।
আবার বাসের যাত্রীদের অভিযোগ, একদিকে ভাড়া বেশি অন্যদিকে দালালদের অত্যাচার। তার মধ্যে আবার সিডিউল বিপর্যায়তো রয়েছেই। যাত্রীরা আরো জানায়, ঈদ তাই পরিবাহনগুলোও লোক বাসের মত যাত্রী উঠাচ্ছে আবার নামাচ্ছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। কিন্তু বিষয়গুলো কর্নপাত হচ্ছে না প্রশাসনের।
লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়ে বরিশাল নৌ বন্দরের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাশার মজুমদার বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি দুর এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে লঞ্চ ঘাটে তাদের পাশাপাশি পুলিশ এবং ভ্রাম্যমান আদালত থাকছে। কিন্তু এখন ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা হচ্ছে। তাই সেখান থেকে যাত্রীবহনের বিষয়টি ঢাকার কর্তৃপক্ষ দেখবেন। তার পরে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানান নৌ বন্দরের এই কর্মকর্তা।