নাশকতা উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন আদালতে আগুনের ঘটনায় বিএনপি’র ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রুবেল খান॥ বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৮। মামলায় বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন, ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক শহিদুল হাসান আনিচ,যুবদল কর্মী মারূফ ও রফিকুল ইসলাম জনি সহ ৬ জনের নামে এবং ২০/২২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের জন্য থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে আদালতে আগুনের ঘটনায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার’র নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ষ্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পেট্রোল অথবা গানপাউডার জাতীয় দ্রব্যের মাধ্যমে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এটাকে তিনি নাশকতা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে আদালতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জরুরী সভা এবং নিরাপত্তা বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালতের বিচারকবৃন্দ। গতকাল শুক্রবার সকালে আদালত কম্পাউন্ডে জেলা ও দায়রা জজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অগ্নি সংযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন সহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল সদর ফায়ার ষ্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন পরিবর্তনকে জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এজলাস, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তা ও জেলা সহকারি কৌশলী কার্যালয়ে ভিপি সম্পত্তির দলিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ভস্মিভূত হয়। রাতেই আধা ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন। এসময় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো. আলাউদ্দিন আরো জানান, আগুনের ঘটনায় তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী’র নিকট হস্তান্তর করেছেন। প্রতিবেদনের নাশকতার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, শর্ট সার্কিট হলে এত দ্রুত আগুন সর্বোত্র ছড়িয়ে পড়তো না। তছাড়া শর্ট সার্কিট হলে মিটার এবং বৈদ্যুতিক ক্যাবল পুড়ে যেত। কিন্তু তদন্তে এমন কোন আলামত তারা পাননি। আগুনের সূত্রপাত গান পাউডার বা পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সেই সাথে বলেন, আদালত আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত টিনসেট আদালত ভবনের পেছন থেকে এই অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সেখানে আদালতের সীমানা প্রাচীরে গ্রিল খোলার আলামতও পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস থেকে ঘটনাটি নাশকতা মূলক কর্মকান্ড নিশ্চিত হওয়ার পর পরই কোতয়ালী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে থানার উপ-পরিদর্শক মজিবর রহমান বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন, কাটপট্টির ছাত্রদল নেতা রাহাত, জনি সহ ৬জনকে নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দেয়া প্রতিবেদনের উপরে ভিত্তি করেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তবে তিনি তদন্তের স্বার্থে এজাহারে উল্লেখিত আসামীদের নাম প্রকাশে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
অপরদিকে সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক’র সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আদালত এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আলাউদ্দিন জানান, সভায় অগ্নিসংযোগ এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারনের লক্ষে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সম্ভাব্য তিন সদস্য’র কমিটিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত পাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এতে ভয়াবহ আগুনে বিচারকের এজলাস এবং বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তা ও জেলা সহকারি কৌশলী কার্যালয়ে ভিপি সম্পত্তির দলিল, মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ভস্মিভূত হয়।