নার্সদের বেতন সমতার নামে টাকা আত্মসাতের মিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নার্সদের বেতন সমতা করার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের মিশনে নেমেছে একটি মহল। ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান ও সাবেক কতিপয় নেতৃবৃন্দের যোগসাজসে ৪৪ নার্সের কাছে ইতোমধ্যে টাকা চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ এবং অসাধু নার্স নেতৃবৃন্দের চাঁদাবাজিমূলক কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাধারন নার্সরা। সূত্রমতে, ১৯৯৯ সনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে পোস্টিং হয় ৪৪ নার্সের। অন্যান্য নার্সদের সাথে তাদের বেতন স্কেলের সমতা করার জন্য সম্প্রতি সেবা পরিদপ্তর থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ৪৪ সিনিয়র স্টাফ নার্স তাদের বেতনের সমতা করে দিতে শেবাচিম হাসপাতালের হিসাব রক্ষক শহীদুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে আর্জি জানান। সিনিয়র স্টাফ নার্স রাজিয়া বেগম, জোৎ¯œা আক্তার, শাহনাজ বেগম, শাহরুমা, পারভিন, মেরি রাশিদা এবং হেলেন অধিকারী অভিযোগ করেন, বেতন সমতা করার জন্য হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম তাদের প্রতি জনের কাছে আড়াই হাজার টাকা করে উৎকোচ দাবী করে। তবে উৎকোচ চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে হিসাব রক্ষক শহিদুল এ বিষয়ে তাদের কাছে জবাব দিহিতায় অপারগতা প্রকাশ করে এবং টাকা না দিলে কাজ হবে না বলে জানিয়ে দেয়। ঐ নার্সরা জানান, পরবর্তীতে উৎকোচ গ্রহনের বিষয়ে তারা ডিপ্লোমা নার্সেস এ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলার সভাপতি আসমা রেজওয়ানা কলি ও জেলা এবং বিভাগের সাধারন সম্পাদক ফরিদুন্নেছার নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নার্স নেতৃদ্বয় উৎকোচ চাওয়ার কারন জানতে চাইলে হিসাব রক্ষক শহিদুল ইসলাম তাদের জানান, এ বিষয়ে বিডিএনএ জেলার সভাপতি সেলিনা আক্তার এবং শাহীনা বেগম এর সাথে কথা হয়েছে। তাদের মত নিয়েই তিনি ৪৪ নার্সর বেতন সমতার জন্য আড়াই হাজার টাকা করে চেয়েছেন। এর বেশি কিছু জানতে হলে মলিনা মন্ডল সহ অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন শহিদুল। পরে জেলার নার্স নেতৃরা এ বিষয়ে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সুলতান এর সহযোগীতা চান। নার্সদের একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিডিএনএ বিভাগীয় সভাপতি মলিনা মন্ডল জেলার সাবেক সভাপতি সেলিনা আক্তার, শাহিনা আক্তার তৃতীয় তলায় মেডিসিন-৩ ইউনিটে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নার্সদের বেতন সমতা করার জন্য ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা উৎকোচ বাণিজ্যের মিশনের পরিকল্পনা করেন। নার্সরা আরো অভিযোগ করেন এর পূর্বে ঐ ৪৪ সিনিয়র নার্সের টাইম স্কেল পাইয়ে দেয়ার কথা বলে দুই দফায় ১৭’শ টাকা করে হাতিয়ে নেয়। কিন্তু তখন ৪৪ জনের কাছ থেকে ৭৪ হাজার ৮০০টাকা হাতিয়ে নিলেও এক বছর পর বেতন স্কেলের চিঠি পান নার্সরা। এজন্য অবিলম্বে নার্সদের কাছ থেকে ঘুষ বাণিজ্য বন্ধের দাবী জানান সাধারন নার্স এবং বিডিএন নেতৃবৃন্দ।