নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ ক্রমবর্ধ্বমান হারে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নারী নেত্রীরা। গতকাল সোমবার বরিশাল প্রেসক্লারে তৃতীয় তলায় হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায় তারা। মহানগর নারী নেতৃবৃন্দের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কহিনুর বেগম। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন নির্যাতনের হার বেড়ে গেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৪০ জন নারী। এদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছে ২ জন। ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে ১২৩টি। এর মধ্যে ধর্ষনের শিকার হয়ে মারা গেছে ১৫ জন নারী ও শিশু, সালিশ ও ফতোয়ার মাধ্যমে মৌখিক তালাক ও দোররা মরার ঘটনা গেটেছে ২টি, যৌতুকের কারনে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫ জন, পারিবারিক সহিংসতার কারনে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে ৫৮ জন ও আত্মহত্যা করেছে ১৬ জন ও এসিড সন্ত্রাসীর শিকার হয়েছে ১৪ জন নারী।
তিনি বলেন, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির জরিপ অনুযায়ী ২০১১ সালের পর থেকে এ দেশে অসংখ্য হারে বেড়ে চলেছে ধর্ষনের ঘটনা। বিশেষ করে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষনের প্রবনতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। গাড়িতে ধর্ষনের শিকার হচ্ছে নারী, আবার ধর্ষন ও নির্যাতনের পরে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসব ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে রয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ মৌখিক বক্তব্যের ভাষায় তৎপরতার কথা বললেও বাস্তবে এর কোন প্রমান আদৌ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার যেসব ক্ষেত্রে শিকারদের সহায়তায় আসামীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে তাদের গ্রেপ্তারে ঢিলে ঢালা অভিযান করা হচ্ছে। যে কারনে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। প্রশাসনের এমন ভূমিকার কারনে স্কুল, কলেজ সহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কারনে নারী নির্যাতন ও নিপীড়ন মহামারি আকার ধারন করছে।
আর তাই নারী ও শিশুর প্রতি এমন সহিংসতা এখন বন্ধ করা উচিৎ। রাষ্ট্রিয়ভাবে তদারকির পাশাপাশি সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কহিনুর বেগম।
এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেগম ফজিলাতুন্নেছা ফরিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিসি’র সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কামরুন্নাহার রোজি, দপ্তর সম্পাদক শাহানাজ পারভিন নিপা, বিসিসি’র মহিলা কাউন্সিলর রেশমি আক্তার, সাবেক কাউন্সিলর নাজনিন আক্তার লিনা।