নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের দন্ডপ্রাপ্ত আসামি এএসআই হাবিবুর হিজলা থেকে গ্রেপ্তার

সাইফ আমীন ॥ নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় ২৭ বছর কারাদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামি পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) হাবিবুর রহমানকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরিশালের হিজলা উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলায় ২৭ বছর দন্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর পালিয়ে বরিশালের নৌপুলিশে চাকরি করছিলেন।
বরিশালের হিজলা থানা পুলিশের সহায়তায় শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে হিজলারটেক নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শরিয়তপুরের নড়িয়া থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুর শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার কাঞ্চনপাড়া গ্রামের আহাদ বক্সের ছেলে। হিজলা থানার ওসি মাসুদুজ্জামান হাবিবুরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, নারায়নগঞ্জের আলোচিত ওই খুনের ঘটনার পর র‌্যাব থেকে বের হয়ে হাবিবুর নিজ বাহিনীতে ফিরে আসেন। ওই সময় তিনি কনস্টেবল ছিলেন। পরে তিনি সহকারী উপ পরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে বরিশাল নৌ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর হাবিবুরকে গতকালই শরিয়তপুরের নড়িয়া নিয়ে যায় ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবদুল বারেক।
হিজলা থানা সূত্র জানায়, নারায়নগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার সময় হাবিবুর সেখানে র‌্যাবে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত থেকে চাকরিচ্যুত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদের দেহরক্ষীর দায়িতে ছিলেন। সাত খুনের ঘটনার পর ফতুল্লা থানায় এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় ২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিল (মামলা নম্বর-৭০) এবং একই থানায় অপর মামলাটি হয় ওই বছরের ৭ মে (মামলা নম্বর-১১)। ওই দুটি মামলার প্রথমটিতে হাবিবুরের ১৭ বছর এবং অপরটিতে ১০ বছর করে কারাদন্ড হয়। দুটি মামলার সাজা হওয়ার পর হাবিবুর সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে পলাতক থেকে চাকরি করছিলেন। কিন্তু গত ১৪ ফেব্রুয়ারি হাবিবুরের গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়া থানায় তার বিরুদ্ধে দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে পরোয়ানা পাঠানো হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর পুলিশ তথ্য পায় হাবিবুর বরিশাল নৌ পুলিশের কর্মরত রয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে নড়িয়া থানার পুলিশ বরিশালের হিজলা থানার পুলিশের সহায়তায় গতকাল হাবিবুরকে গ্রেপ্তার করে।
হিজলা থানার ওসি মাসুদুজ্জামান বলেন, হাবিবুর দুটি মামলায় ২৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত। বিষয়টি আমরা এর আগে জানতাম না । গতকাল শুক্রবার নড়িয়া থানার দুজন কর্মকর্তা হাবিবুরের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির পরোয়ানা নিয়ে আমাদের থানায় এলে বিষয়টি অবগত হই এবং এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায়র রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন হাবিবুর রহমান।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি মরদেহ, পরদিন মেলে আরেকটি মরদেহ।
নিহত বাকিরা হলেন, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম। ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ১১ মে একই থানায় আরেকটি মামলা হয়। এই মামলার বাদী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুইটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ।