নাটকীয়ভাবে ৪ অপহরণকারীর হাত থেকে পালিয়ে বাঁচল শিশু মুবিন

জুবায়ের হোসেন ॥ নগরী থেকে অপহরণের পর লেবুখালী এলাকা থেকে দুর্বার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পালিয়ে ফিরেছে এক শিশু। চেতনা নাশক পানীয় পান করিয়ে গতকাল সকালে অপহরণ হওয়া হাফেজ মো. আবু যার মুবিন (১৪) ঠিক নাটক সিনেমার মত করেই পালিয়ে বেঁচেছে ৪ অপহরণকারীর হাত থেকে। একই সাথে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে অপহরণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফিরেছে স্বজনদের কাছে। মুবিন নগরীর হাটখোলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের মিয়ার ছেলে এবং ঝালকাঠী নেছারাবাদ আজিজিয়া হাফেজী মাদরাসার ছাত্র। অপহরণের শিকার শিশু মুবিন ও তার ভগ্নিপতি দলিল লেখক মো. নান্না শিকদার ঘটনার বিবরণে জানান, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে থেকে মুবিনকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে প্রেরণের জন্য অটোতে তুলে দেন। অটোতে এসময় যাত্রীবেশে ৩ অপহরণকারী ও চালকসহ ৪ জন ছিল। এসময় মুবিন একটি কোমল পানীয় পান করছিল। অটোরিক্সাটি পুলিশ লাইন অতিক্রমকালে অটোচালক মুবিনের কোমলপানীয়টি পান করতে আগ্রহ জানায়। মুবিন তাকে পানীয়টি দিলে তা থেকে কিছুটা পান করে ফিরিয়ে দেয় সে। ঐ পানীয় পান করে অচেতন হয়ে পড়ে মুবিন এবং এরপরে আর তার কোন কিছু মনে নেই বলে জানায় সে। বিকেলে তার জ্ঞান ফেরে চলন্ত একটি মাইক্রোবাসে হাত-পা বাঁধা অবস্থায়। এসময় তার সাথে ৪ অপহরণকারী সহ অপহরণকৃত আরও ২ শিশু তার সাথে ছিল বলে জানায় সে। ঐ ২ শিশুও হাত-পা বাঁধা ও অচেতন অবস্থায় ছিল। জ্ঞান ফেরার পর মুবিন অপহরণের বিষয়টি বুঝতে পেরে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে অচেতন হয়ে থাকার অভিনয় করে। যাতে করে অপহরণকারীরা সন্দেহ করতে না পারে। কিছুক্ষণ চলার পরে সাদা রঙ্গের পুরনো মাইক্রোবাসটি মহাসড়কের পাশে একটি স্থানে থামায় বলে জানায় মুবিন। তাদের রেখে অপহরণকারীরা যেকোন কারণে কিছুদূরে যায়। এসময় মুবিন তার পায়ের কাছে থাকা একটি ঠোঙ্গা দেখতে পায়। তাতে পা দিয়ে নাড়া দিলে চারটি ছোড়া বের হয়। অতঃপর সেই ছোড়ার একটি পা দিয়ে টেনে নিজের হাতের বাধন কেটে ফেলে। এরপর পায়ের বাধন খুলে পাশে থাকা দুই শিশুকে চেতনা ফেরানোর চেষ্টা করে সে। তাদের জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিজেই পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মুবিন। অপহরণকারীদের ফেরার আগেই মাইক্রোবাসের জানাল থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। অপহরণকারীরা তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চলন্ত একটি পিকআপ ভ্যানে লাফিয়ে উঠে অপহরণকারীদের হাত থেকে পালিয়ে আসে মুবিন। অপহরণকারীরা যে স্থানে গাড়িটি থামিয়ে ছিল সে স্থানের নাম লেবুখালীর পাঙ্গাসিয়া বলে জানায় মুবিন। একটি দোকানের সাইনবোর্ড দেখে ঠিকানাটি নিশ্চিত হয় সে। এরপর পিকআপে করে সে লেবুখালী ফেরিঘাটে পৌছায় এবং ফেরি পার হয়ে এপাড় চলে আসে। সেখান থেকে এক অটো চালকের মোবাইল ফোন থেকে ফোন দেয় তার বোনের নাম্বারে। এরপর ভগ্নিপতি মো. নান্না শিকদার ঐ অটো চালকের সাথে যোগাযোগ করে তার গন্তব্য বাকেরগঞ্জ নিয়ে আসার অনুরোধ জানায়। সেখানে এনে একটি দোকানে রাখা হয় মুবিনকে। অতঃপর তার স্বজনরা গিয়ে তাকে সন্ধ্যার পরে নগরীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ফেরার পর তার অপহরণের বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদের সাথে যোগাযোগ করে মুবিনের পরিবার। এসময় ওসি মুবিনের সাহসিকতার প্রসংসা করে অপহরণকারীদের শনাক্তকরণের জন্য অপহরণ স্থানের আশেপাশের কোন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজের সন্ধানের পরামর্শ দেন। তবে ঐ এলাকায় কোন সিসি ক্যামেরা না থাকায় সন্ধানে ব্যর্থ হন তারা।