নলছিটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস দুর্নীতির আখড়া

নলছিটি প্রতিবেদক ॥ নলছিটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎ চুরি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন, সদস্য সংগ্রহ, লোড বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তা।
সম্প্রতি অবৈধ সংযোগে কারনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয় ঘের শ্রমিক সাইফুল ইসলাম। এদিকে সাইফুল হত্যার বিচার এবং পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ বিচ্ছিন্ন করা দাবিতে আন্দোলনে নামছে মানবাধিকার সংগঠন গুলো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নলছিটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন ফরম, সদস্য ফরম, মিটার জামানত, আন্ডার বিল, ডিপোজিট জামানত, নতুন মিটার সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না। মিটার আবেদনকারীর কোনো ধরনের জটিলতা থাকলে হয়রানি ও টাকার অংক বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট অফিসে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার গ্রাহক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
আবেদনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, আমি ২০১২ সালে নতুন মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করি। কিন্তু আমার মিটারটি মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে অন্যকে দিয়ে দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বৈধ বিদ্যুৎ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। অভিযোগ রয়েছে, নলছিটি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা মাসিক চুক্তিতে অলিখিতভাবে এ ধরনের অবৈধ সংযোগ সরবরাহ করে থাকে। প্রভাবশালী কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় একটি মিটার থেকে একাধিক অবৈধ সংযোগ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। কোন কোন ক্ষেত্রে মিটার ছাড়া সরাসরি বিদ্যুৎ পোস্ট (খুটি) থেকে সংযোগ নিচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মাসিক চুক্তির মাধ্যমে গোপন লেনদেন করে ওইসব অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে নীরব রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিপজ্জনক স্থান দিয়ে দীর্ঘ তার টেনে অবৈধ পন্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ৬ জুলাই অবৈধ বিদ্যুতের তারে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাইফুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবক মারা গেছে। উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের বিকপাশা গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে তার মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাছের ওই ঘেরটির মালিক নান্দীকাঠী গ্রামের দেলোয়ার হোসেন। রাজউক এর পিয়ন হিসেবে কর্মরত দেলোয়ার দুর্নীতির দায়ে চাকুরী হারিয়ে এলাকায় ফিরে ঘের ব্যবসা শুরু করেন। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে সরাসরি বৈদ্যুতিক খুটি থেকে অবৈধ সংযোগ নেন বিতর্কিত ওই ঘের ব্যবসায়ী। মাছের ঘেরে কর্মরত শ্রমিক সাইফুল ইসলাম ওই অবৈধ সংযোগের ব্যাপারে কিছু জানতেন না। ঘেরে হঠাৎ করে বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে সাইফুল মিটার দিয়ে যাওয়া লাইনটি বন্ধ করে বৈদ্যুতিক তার মেরামত করতে যায়। কিন্তু সংযোগটি সরাসরি বৈদ্যুতিক খুটি দিয়ে অবৈধ ভাবে যাওয়ায় তারে বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে যায়। আর এতে বিদুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা সাইফুল। বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের কারনে সাইফুল মারা গেলেও রহস্যজনক কারনে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। এদিকে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।