নলছিটিতে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া হচ্ছে বহুতল ভবন

নলছিটি প্রতিবেদক॥ নলছিটিতে পৌরসভার প্লান পাস ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া চলছে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ। আর এ ভবনটি নির্মাণ করছেন উপজেলার নান্দিকাঠী গ্রামের মাহমুদুল্লাহ সান্টু। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে হঠাৎ করে  অঢেল অর্থের  মালিক হয়েছেন তিনি। তবে তার টাকার উৎসের ব্যাপারে  মুখ খুলতে নারাজ তিনি। পৌর কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায় এমন একটি ভবন নির্মাণ বন্ধে কোন রকম নোটিশ করেনি কর্তৃপক্ষ। দেখেও না দেখার ভান করছে তারা। ইমারত নির্মাণ আইনে ব্যাক্তিগত সম্পত্তিতে যে কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অথচ সান্টু পৌর কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি  নেননি। এমনকি পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান এ ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজ মাল বলেন,সান্টু আবেদন করেছেন। কিন্তু তার প্লান পাস ও কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া যায়নি। অনুমতি ছাড়া সান্টু কিভাবে একতলার ছাদ শেষ করে দোতলার কাজ করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আজিজ মাল জানান,দু’এক দিনের মধ্যে সান্টু অনুমতি পেয়ে যাবে।এরপর সাংবাদিকরা সান্টু ভবন নির্মাণের আবেদন দেখতে চাইলে তিনি আবেদনপত্র না দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। মেয়র মজিবুর বলেন,আমি বিষয়টি জানি না। পৌরসভা সান্টুকে কোন ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। এদিকে রহস্যজনকভাবে সান্টুর অঢেল টাকার মালিক হওয়ার বিষয়টা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। জানা গেছে,তিনি তার ভবন নির্মাণে ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। তবে সান্টুর দাবি তার স্ত্রীর পক্ষের এক আত্মীয় তাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। একাধিক এলাকাবাসী জানায়,সান্টু ব্রাকে চাকুরী করতেন। পরে সেখান থেকে একটি ঝামেলায় চাকুরীচ্যুত হন। পরে খুলনায় কিছু দিন চাকুরী করেন। এরপর তিনি ঝালকাঠী কায়েদ সাহেব হুজুরের দরবারে ৫০০০টাকা বেতনে চাকুরী করেন। হঠাৎ গ্রামে ফিরে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি চোখে পড়ে এলাকাবাসী। তারা অনেকে সান্টুর কাছে টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চেয়ে সদুত্তর পায়নি। এদিকে নামে বেনামে নলছিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু লিফলেট। যে গুলোতে তুলে ধরা হয় হঠাৎ বড় লোক হওয়ার রহস্য। তুলে ধরা হয় সান্টুর রহস্যজনক টাকার উৎস। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ছে নলছিটিতে। সান্টু চেষ্টা চালাচ্ছে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে। সান্টুর টাকার উৎস খুজতে  দুর্নীতি দমন কমিশন ও আয়কর বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে এলাকাবাসী । কোন ক্ষমতাবলে পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে প্রসাদসম ভবন নির্মাণ করছে তা তদন্ত করে দেখার  দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।