নলছিটিতে চলছে অবৈধ স্টাম্প, জাল কোর্ট ফি বিক্রি

নলছিটি প্রতিবেদক ॥ নলছিটিতে প্রশাসনের নাকের ডগায়ই বিক্রি হচ্ছে অবৈধ স্ট্যাম্প, জাল কোর্ট ফি, কার্টিস সহ মামলায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এতে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সহকারী কমিশনারের অফিস সংলগ্ন রাস্তা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের পাশের ফটোস্ট্যাট ও কম্পিউটারের দোকানে এসব অবৈধ ব্যবসা করছে দোকানদাররা। এদের কারও নেই কোন বৈধ লাইসেন্স। এমনকি কোন স্থান থেকে ক্রয় করেছে বা কোন চালানের মাধ্যমে ক্রয় করেছে, এ ব্যাপারে কোন তথ্য উপাত্ত। সম্পূর্নটা অবৈধ আর রহস্যে ঘেরা।
একাধিক দোকানদার জানায়, কিছু টাকা পয়সা দৈনিক/মাসোয়ারা দিয়ে তারা প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করছে। প্রশাসন ম্যানেজ থাকায় আর তেমন কোন সমস্যা নেই। সূত্র জানায়, একটি ১০ টাকার কোর্ট ফি, স্ট্যাম্প কেউ বিক্রি করছে ৫/৬ টাকায় আবার কেউ বিক্রি করছে ১০/১২ টাকায়। একটি ১০০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প কেউ বিক্রি করছে ৮০ টাকায় আবার কেউ বিক্রি করছে ১০৫/১১০ টাকায়। কাটিজ বিক্রি হচ্ছে কোথাও ১০-১২ টাকায় আবার কেউ বিক্রি করছে ৬-৭ টাকায়। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল সাধারণ মানুষ কিংবা কারো পক্ষেই বুঝা সহজ নয় কোনটা বৈধ আর কোনটা অবৈধ। অবৈধ স্টাম্প সহ প্রয়োজনী কাগজপত্র দিয়েই চলছে সরকারী দপ্তরের কাজ। প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ ।
ভূক্তভোগীরা জানায়,প্রায় সকল দোকানেই বিক্রি হচ্ছে অবৈধ স্ট্যাম্প, কাটিস, কোট ফি সহ যাবতীয় কাগজপত্র। দীর্ঘদিন যাবৎ একটি সিন্ডিকেট এ অবৈধ ব্যবসা করে আসছে। তবে এসব দোকানিরা প্রকাশ্যে বিক্রি না করলেও পরিচিত বা দালালদের মাধ্যমে দেদারছে বিক্রি করছে এসব অবৈধ স্টাম্প সহ অন্যান্য কাগজপত্র।
একটি বিশ্বাস্ত সূত্রে জানাযায়, একটি চক্র ঢাকা থেকে এসব অবৈধ কাগজপত্র নিয়ে এসে নলছিটিতে অবস্থানরত দোকানের মাধ্যমে গোপনের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে থাকে। দোকানদারা কম দামে নিয়ে ইচ্ছামত দামে বিক্রি করে।
এ ব্যাপারে নলছিটি উপজেলা উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) নমিতা দে বলেন,‘বিষয় খুবই গুরুত্বও ও স্পর্শকাতর। এ ব্যাপারে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন ঘটে নি।
এদিকে সরকারের রাজস্ব নষ্ট করে জাল কোর্ট ফি-স্ট্যাম্পের অবৈধ ব্যবসা বন্ধে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন ভোক্তভোগীরা সহ স্থানীয় জনগণ।