নরপশুর প্রতিহিংসার শিকার শিশু কন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জমি সংক্রান্ত বিরোদের জেরে বিকৃত প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে ২২ মাসের ১ কন্যা শিশু। মা-বাবার পাশে ঘুমন্ত ওই শিশুকে তুলে নিয়ে যৌন নিপীড়নের হত্যার উদ্দেশ্যে ফেলে রেখে গেছে এক নরপশু। গত ২৩ এপ্রিল ভোর রাতে এই ঘটনাটি ঘটেছে এয়ারপোর্ট থানাধীন পশ্চিম রামপট্টির বড় ঢালী বাড়িতে। নির্যাতনের শিকার শিশুর পিতা মোঃ ফিরোজ হোসেন ঢালী। সে মৃত আব্দুল খালেক ঢালীর ছেলে। সোনারতরী পরিবহনের সুপার ভাইজার হিসেবে কাজ করেন তিনি। শিশুটি বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। এ ঘটনায় ২৫এপ্রিল রাতে পিতা ফিরোজ ঢালী বাদী হয়ে বিমান বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১) ধারায় মামলা করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম। মামলার সন্দেহভাজন অভিযুক্ত প্রতিবেশী কামাল ঢালী (৩৭) নামক এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সে একই বাড়ির মৃত রশিদ ঢালীর ছেলে এবং ফিরোজ ঢালীর দুঃসম্পর্কের চাচা। মামলার কপি ও নির্যাতিত শিশুর পিতা মোঃ ফিরোজ হোসেন ঢালীর মুখ থেকে ঘটনার বিবরনে জানা যায়, ২২ এপ্রিল রাতের খাবার শেষে ফিরোজ ঢালী ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার তাদের ১ বছর ১০ মাস বয়সি কন্যা সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ২৩ এপ্রিলের শুরুর প্রহরে তার স্ত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। তখন ফিরোজ ঢালী শিশুর সাথে ছিলেন। রাত ৩ টার দিকে ঘুমের ঘোরে বিছানায় হাত দিলে দেখেন তার কন্যা শিশু নেই। প্রাথমিক ভাবে খুজে না পেয়ে তাদের ডাক চিৎকার ও আর্তনাদে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। এ সময় তারা ঘরের দুটি দরজা ও একটি জানালা খোলা দেখেন। অতঃপর চারদিকে খোজাখুজি করেন সবাই। এমনকি ভোর রাতে মসজিদের মাইকে শিশুটির খোজে মাইকিং করেও ব্যর্থ হন তারা। সকাল ৬টায় স্থানীয় মেম্বর বিমানবন্দর থানায় খবর দিলে সেখানে পৌছেন এএসআই ফকর। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ চলে গেলে বাড়ীর উঠানে সমবেত হয় প্রতিবেশি সহ পিতা-মাতা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বাড়ীর পার্শ্ববর্তী পুকুর পারের কর্দমাক্ত নালার ভেতরে কন্যা শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন ফিরোজ ঢালীর দুই প্রতিবেশী নারী। কাদামাখা প্রায় মৃত শিশুটিকে দেখে তাদের ডাকচিৎকারে ছুটে আসেন পিতা মাতা সহ সকলে। প্রায় ১ ফুট পানির মধ্যে কাদামাখা অবস্থায় পড়ে ছিল শিশুটি। প্রচন্ড ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে মা-বাবা বলে অস্পষ্ট স্বরে ডাকছিলো এই সদ্য কথা বলতে শেখা শিশুটি। সারা রাত পানিতে ভিজে তার একটি হাত ও একটি পায়ের চামড়ায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে গেছে বলে জানায় পিতা ফিরোজ ঢালী। তার পা ও শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা, ঠোট ও জিহ্বা ফুলে ছিলো। তাকে তৎক্ষনাৎ উদ্ধার করে শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটির মুমূর্ষু অবস্থা দেখে দ্রুত ওসিসি’তে প্রেরণ করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে আছে। দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানায়, শিশুটির অবস্থা গুরুতর। প্রচুর পরিমানে রক্তক্ষরণ ও সারারাত পানিতে ভিজে থাকায় তার অবস্থা কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আটককৃত প্রতিবেশী কামাল ঢালীর সাথে দীর্ঘদিন ফিরোজ ঢালীর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরে তিনি এমন ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে মামলায় এজাহারে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য প্রশাসন ও বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানায় পিতা মোঃ ফিরোজ ঢালী। এমনকি ঘটনাটি যাতে প্রকাশই করা না হয় সেজন্যও তাকে একাধিকবার বলা হয়েছে। তবে কন্যা শিশুর সাথে এমন কাজ যে করেছে তার সঠিক বিচারের জন্য সব কিছুই করতে রাজি বলে জানিয়েছেন পিতা। আর নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে যে সকল সংস্থা কাজ করেন তাদের সহযোগীতা কামনা করছেন যাতে করে ২২ মাসের এক শিশুর সাথে হওয়া এই নির্মম অত্যাচার হুমকি, ক্ষমতা বা টাকার জোরে মিমাংসায় পরিণত না হয়। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, এ ঘটনায় শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছেন। মামলার প্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন প্রতিবেশী মোঃ কামাল ঢালীকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর সঠিক শাস্তি প্রক্রীয়া সক্রিয় রয়েছে পুলিশ।