নববধূকে ধর্ষণ ॥ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বানারীপাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি

ওয়াহিদ রাসেল ॥ শেষ পর্যন্ত নববধূকে ধর্ষনের কথা পুলিশ ও আদালতে স্বীকার করেছে বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন হোসেন মোল্লা। গতকাল সোমবার পৃথকভাবে পুলিশ ও আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের কাছে ১৬১ ধারায় দেয়া জবানবন্দি গ্রহন করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার এসআই রুহুল আমিন। জবানবন্দি গ্রহনের সময় সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির ও বানারীপাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিল। জবানবন্দি গ্রহনকারী এসআই রুহুল আমিন জানান, সুমনের ৫ সহযোগি গৃহবধুর স্বামী সিএনজি চালককে বেতাল ক্লাবের পাশে সাইদুলের দোকানে তালাবদ্ধ করে রাখে। গভীর রাতে স্বামীর ফুফু’র ঘরে থাকা গৃহবধূকে জিম্মি করে ধর্ষন করেছে। গৃহবধূকে সুমন একাই ধর্ষন করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। পরে তাকে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয়ার জন্য নেয়া হয়। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি গ্রহন করেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. শিহাবুল ইসলাম। বিচারকের কাছে দেয়া সুমনে দেয়া জবানবন্দি সুত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে শনিবার রাত ১১ টায় সিএনজি চালকের মামার বাসায় যায় সে ও তার সহযোগিরা। তারা দম্পত্তির কাছে বিয়ের প্রমানাদি দেখতে চায়। এই সময় দম্পত্তির অসংলগ্ন কথায় তাদের সন্দেহ হয়। তখন বিয়ে হয়নি বলে হুমকি দিয়ে তাদের একই গ্রামে সিএনজি চালকের বিধবা ফুফুর বাসায় নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে নববধুর স্বামীকে বেতাল বাজারে সাইদুলের দোকানে এনে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। রাত একটার দিকে ফুফুর বাসায় যায় সুমন। বাসায় অবস্থান করা ফুফুকে একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। নববধূকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে রাতভর ধর্ষন করেছে আসামী সুমন। সকালে ধর্ষনের প্রমান নষ্ট করে এবং কারো কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

এছাড়াও ধর্ষনের ঘটনা আদালতের একই বিচারকের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন ধর্ষিতা গৃহবধূ’র স্বামী ও ফুফু শাশুরী। অপরদিকে বিচারক আসামী সুমনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও গৃহবধূর শারিরিক পরীক্ষার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ানষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, চট্টগ্রামে সিএনজি চালাতে গিয়ে পরিচয় হয় তাদের। গত বছরের ২০ অক্টোবর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করে সিএনজি চালক। ১২ দিন পূর্বে নববধূকে নিয়ে সিএনজি চালক সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের বেতাল গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা দলবল নিয়ে চাঁদা দাবী করে। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হলে  ছাত্রলীগ সভাপতি সুমন মোল্লা ও তার সহযোগিরা দু’জনকে ধরে নিয়ে কাবিননামা দেখতে চায়। এই অজুহাতে পাশের বাড়িতে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। তিনি পুলিশকে জানালে রোববার বেলা ১১টার সময় গৃহবধূকে উদ্ধার করেন। এদিন বিকেলে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলা প্রধান আসামী হিসেবে সুমনকে নগরী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।