নথুল্লাবাদ থেকে সোনামিয়ার পুল পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দেয়ার পর স্থাপনা সড়িয়ে না নেয়ায় জেল খালের উপর অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা বুলডেজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে সোনামিয়ার পুল পর্যন্ত বর্ধিত অংশের ঐ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম শুরু হয়। এসময় জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামানের নেতৃত্ব জিয়া সড়ক এলাকার এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনাকালে খালের দুই পাশে স্থানীয় জনগনের অংশগ্রহন যেন আরেক মহা সমাবেশের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সী নারী -পুরুষ সকলেই এই জেলখালের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। তাদের একটাই দাবি জেলখাল সকলের সম্পত্তি এখানে কেউ অবৈধ ভাবে দখল করে থাকতে পারবে। যেকোন মূল্যেই এই সম্পত্তি উদ্ধার করে এই খালের পুরনো যৌবন ফিরিয়ে দিতে হবে। জেল খালের এই অংশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানকালে জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা আবু হান্নান জানান, জেলা প্রশাসকের এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের ফলে জেল খাল এখন নতুন রুপে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে। তাছাড়াও এর মধ্যে দিয়েই অন্য কোন দখলদার কোন সরকারী জমি আর দখল করতে সাহস পাবেনা। তিনি আরো জানান, জেল খালের এই অংশটি পুরোপুরি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলেই এই খালটি আবার সেই আগের মত ব্যবহার উপযোগী হবে। সবাই এই খালটিতে নৌকা ভ্রমনে আসবে বলে তিনি আশাব্যক্ত করে বলেন গত ৩ সেপ্টেম্বর জেল খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান বরিশালের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। সাধারন জনগনের স্বতঃর্স্ফুত অংশগ্রহন সবাইকে মুগ্ধ করেছে। এখানকার সাধারন জনগনের এই ঐক্যবদ্ধতা সারাবিশ্বে বরিশালের মুখ উজ্জল করেছে। এদিকে গতকাল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় গনমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্য জেলা প্রশাসক ড. গাজী সাইফুজ্জামান বলেন, উন্মুক্ত চিত্তে সাধারন জনগনের সম্বলিত প্রয়াসে এই জেল খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেখা গেছে, জনগনের এই সম্পত্তি (ঐতিহ্যবাহী জেল খাল) কতিপয় অপদখলকারী নিজের সম্পত্তি মনে করে দখল করে আছে। যার ফলে সাধারন জনগনকে সাথে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগীতায় এই জেল খালের দ্বিতীয় অংশের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসময় তিনি আরো জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে সোনামিয়ার পুল পর্যন্ত প্রায় ৪.৫ কিলোমিটারে ২শত ৭৫ জন অপদখলকারী এই খালটিকে দখল করে আছে।তাই ঐ সকল অপদখলকারীদের হাত থেকে এই খালকে উদ্ধার করা হবে। এছাড়াও গত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তাদের অবৈধ স্থাপনা সড়িয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হলেও কিছু অপদখলকারী খালটি দখল করে বহাল তবিয়তে ছিল। তাই বুলডেজার দিয়ে ঐ স্থাপনা গুলো গুরিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও গুরিয়ে দেয়া স্থাপনা গুলো খালের মধ্যে থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থাপনা সড়িয়ে না নিলে, তাদের ঐ স্থাপনা গুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানান তিনি। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের নির্দেশনায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, রাজস্ব) আবুল কালাম আজাদ, আহসান হাবিব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ন কবীর, নির্বাহী হাকিম সুখময় সরকার, রেজাউল করিম, লুৎফুন্নেছা খানম প্রমুখ। এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা, নদী খাল বাচাঁ আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু, মুক্তিযোদ্ধা কেবিএস মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতিক সহ জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ। উল্লেখ্য গত ৩ সেপ্টেম্বর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মধ্য দিয়ে গনজাগরনের সৃষ্টি হয়েছিল এই বরিশালে। জেল খাল উন্নয়নে ইতিমধ্যে ২৫কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পরে আরো বড় ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা ভাবছেন জেলা প্রশাসক। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।